ঢাবিতে বাবার লাগানো গাছের নিচে ‘কেনেডি জুনিয়র’
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটগাছটি উপড়ে ফেলেছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সেই স্থানেই আরেকটি বট গাছের চারা রোপণ করেছিলেন প্রয়াত মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি। সেই বটগাছ পরিদর্শন করেছেন অ্যাডওয়ার্ড এম কেনেডির ছেলে এডওয়ার্ড এম কেনেডি জুনিয়র।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির ছেলে এডওয়ার্ড এম কেনেডি জুনিয়র সোমবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সপরিবারে আসেন কেনেডি জুনিয়র। বটতলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামন তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রমুখ।
_1667206735.jpg)
.png)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শনের সময় এম কেনেডি জুনিয়রের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন। তারা হলেন– এম কেনেডি জুনিয়রের স্ত্রী ড. ক্যাথরিন কিকি কেনেডি, মেয়ে ড. কাইলি কেনেডি, ছেলে টেডি কেনেডি, ভাতিজি গ্রেস কেনেডি অ্যালেন ও ভাতিজা ম্যাক্স অ্যালেন। বটতলা পরিদর্শন শেষে রিকশাযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন কেনেডি পরিবার।
ছয় দফা আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের সংগঠনস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা। তাই যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই বটগাছকে উপড়ে ফেলেছিল। ১৯৭২ সালে এডওয়ার্ড এম কেনেডি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বন্ধুত্ব, স্থিতিস্থাপকতা ও আশার প্রতি জীবন্ত শ্রদ্ধা হিসেবে একটি বটগাছ রোপণ করেছিলেন, যা আজও দাঁড়িয়ে আছে।

বাবার হাতে লাগানো বট গাছ পরিদর্শনকালে টেড কেনেডি জুনিয়র বলেন, বাবার লাগানো গাছ দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। বাংলাদেশের মানুষের আতিথিয়তায় আমি মুগ্ধ। জনসংখ্যার তুলনায় বাংলাদেশের আয়তন কম হওয়ার পরও চমৎকারভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।
এরপর বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘Commemorating the 50th Anniversary of US-Bangladesh Relations’ শীর্ষক এক বিশেষ বক্তৃতা দেন এডওয়ার্ড এম কেনেডি জুনিয়র। সিনেট ভবন বিশেষ বক্তৃতায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এসময় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. পিটার ডি হাস বক্তব্য দেন।