সোমবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন প্রফেসর আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন গবেষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। কালাজ্বর ব্যাধি শনাক্তকরণে নতুন এই পদ্ধতি দ্রুত ও কার্যকরী একটি নতুন মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি হবে বলে জানিয়েছেন তারা। এই পদ্ধতির ফলে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমাবে বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ মনজুরুল করিম।
.png)
মনজুরুল করিম জানান, এর আগে কালা জ্বর নির্ণয়ে রক্তের কালচার এবং যকৃত, অস্থিমজ্জা বা প্লীহা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হতো, যা সময় সাপেক্ষ এবং কিছুটা যন্ত্রণাদায়ক। নতুন এই পদ্ধতিতে কালাজ্বর নির্ণয় করতে যেমন সময় কম লাগবে, তেমনি ব্যথা ছাড়াই শতভাগ রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে।
মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় খরচও গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে কম হবে বলে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, ‘কত টাকা খরচ হবে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। কারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো তাদের সামগ্রিক খরচ যুক্ত করে ফি নির্ধারণ করে থাকে। তবে প্রতিটি নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষাগারে যেসব দ্রবণ দরকার হয়, সেগুলোর খরচ হিসেবে ৭৫৬ টাকা লাগবে, যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম। আবার এ পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়ে রোগী কিংবা তার পরিবারকে বেশি দূরেও যেতে হবে না। কারণ কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী আরটিপিসিআর মেশিন আমাদের প্রায় প্রতিটি উপজেলা সদর হাসপাতালেই রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্য গবেষকরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় কালা জ্বর রোগের প্রকোপ বেশি। বিএমআরসির অনুমোদনসহ এই রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য সাত বছর সময় ব্যয় হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন এই সুবিধা নিতে পারেন সেজন্য দ্রুতই এই পদ্ধতি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে প্রচলনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
কালাজ্বর একটি পরজীবীঘটিত ব্যাধি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি চিকিৎসা নেয়ার পরও শতকরা পাঁচজন রোগীর মৃত্যুঝুঁকি থাকে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। কালাজ্বর নির্ণয়ে দেশে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। কালাজ্বর শনাক্তকরণে গতানুগতিকভাবে অনুসৃত বোন ম্যারো, স্প্লিন এসপিরেট কিংবা লিভার বায়োপসির পরিবর্তে মূত্র নমুনা ব্যবহার করে গবেষক দল এই মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।