বাকৃবির অষ্টম সমাবর্তন ঘিরে যা ভাবছেন শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অষ্টম সমাবর্তন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার গ্রাজুয়েটকে একসঙ্গে নিয়ে হতে যাচ্ছে বাকৃবির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই সমাবর্তন। অনুষ্ঠিতব্য এ সমাবর্তন ঘিরে শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। বাকৃবির সমাবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনাগুলো জেনেছেন ‘আবুল বাশার মিরাজ’।
দীর্ঘ অপেক্ষার অষ্টম সমাবর্তন হোক সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন হলো আনুষ্ঠানিক বিদায়। তবে এ বিদায় আনন্দের ও ভালোলাগার। বর্ণাঢ্য উৎসব ও জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটানোর এ অভিজ্ঞতার স্বাদের অপেক্ষা করছি। সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ঘোষণার পর থেকেই গুনতে শুরু করেছি কখন আসবে সেই অনুভূতিতে মিশে থাকা দিনটি। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ সিজিপিএ (৪.০০) এর জন্য গোল্ড মেডেল পেতে যাচ্ছি। বন্ধু-বান্ধব পরিবারের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগ করতে চাই। মাতৃসম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তনের সফলতা কামনা করে আর একটি প্রত্যাশার কথা বলতে চাই। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিতব্য বাকৃবি শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত অষ্টম সমাবর্তন, যা হউক সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
.png)
উম্মে অহিদা রহমান
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ (২০১২-১৩)
এখন কেবল দিনটির জন্য অপেক্ষা
দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গ্র্যাজুয়েটের জীবনের এক অমোঘ স্বপ্ন, কালো হেট আর কালো সেই গাউনের স্পর্শ, আকাশে ছুড়ে দেওয়া ক্যাপের সঙ্গে পরিবারের গর্ব হৃদয়ে মেখে নেওয়ার অষ্টম সমাবর্তন। এ যেন ঈদের আনন্দ। যেদিন থেকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিন থেকেই আমরা সবাই একে নিয়ে খুবই উত্তেজিত অনুভব করছি। গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি ঠিকই, কিন্তু এই কালো গাউন পড়ার লোভ সবসময়ই ছিল। খুবই ভালো লাগছে, এত ভালো লাগছে যে এর অনুভূতি শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যাবে না। বান্ধবীরা প্ল্যান করছি, কে কি ড্রেস পড়ব, গ্রুপের সবাই মিলে কি কি করা যায়, হলের সবাই কিভাবে ঐ সময়গুলো সুন্দরভাবে কাটাব। অনেকদিন বা অনেক বছর পরে অনেকের সঙ্গে দেখা হবে, এখন শুধু ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা। অশেষ ধন্যবাদ বাকৃবি প্রশাসনকে, প্রতিটি গ্র্যাজুয়েটের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য। সবাই সুস্থভাবে, আনন্দ নিয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিবে, সেই প্রত্যাশা করি।
তাজরিন আক্তার (কথা)
কৃষি অনুষদ; সেশন: ২০১২-১৩
বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতে উঠতে চাই বন্ধুদের সঙ্গে
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনগুলো সেই চিরচেনা কালো গাউন, হ্যাট আর হাতে একটা সার্টিফিকেট দিয়ে ফ্রেমবন্দী করে রাখা। ইচ্ছে থাকে আনন্দ-উল্লাস আর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠবে প্রিয় ক্যাম্পাস। আজ সেই দিনটা খুব সন্নিকটে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার স্বীকৃতি পাচ্ছি। সমাবর্তনের মতো এত বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে দারুণ আনন্দের ও গর্বের। পাঁচ বছরের পড়ালেখা, পরিশ্রম, হাসি-আনন্দের বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। সত্যি বলতে এ দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে থাকব। সর্বোপরি ক্যাম্পাসের সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে দেখা হবে ভাবতেই আনন্দ লাগছে। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। কৃতজ্ঞতা আয়োজক কমিটিকে।
মেহেদী হাসান
ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ, (২০১৫-২০১৬)
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বিস্তারিত দ্রুত জানানো হউক
অনেকদিনের আরাধ্য বস্তু পাওয়ার মত অনুভূতি হচ্ছে সমাবর্তন। সবসময় সোশাল মিডিয়া এবং বাস্তবে অন্য ভার্সিটির সমাবর্তন, কালো গাউন ও টুপি দেখে মনে হত এটাই তো গ্রাজুয়েশনের প্রকৃত সার্থকতা, কিন্তু আমাদের যে কেন হচ্ছে না? অবশেষে আমাদেরও সেই সুযোগ এসেছে বলে সত্যিকার অর্থেই ভালো লাগছে। সমাবর্তন সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার পূর্ণতা পাক এই কামনা করি।
আরেকটি বিষয়, সমাবর্তন যেহেতু অনেক বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। এটার পার হেড বাজেট অনুসারে ডিস্ট্রিবিউশনটা সবাই আসলে জানতে চায়, আর কি কি দেওয়া হবে এগুলোর প্রতি সবারই কম-বেশি আগ্রহ থাকে। তাই এ বিষয়গুলো দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হোক। আর অতি দ্রুত অফিশিয়াল নোটিশসহ অনুষ্ঠানের সব জিনিস কোথা থেকে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে সেইসঙ্গে অতিথি সঙ্গে নেওয়ার নিয়ম সব জানিয়ে দিলে প্রস্তুতি নেওয়া অনেকাংশেই সুবিধা হত। তাই আশা রাখব, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়গুলোর প্রতি খুব দ্রুত নজর দিবেন।
মাহনূর খান মুকুট
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, (২০১৩-১৪)