ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

চূড়ান্ত প্রতিবেদন: টাকা জোগাতে না পারাই ফারদিনের আত্মহত্যার কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২:৩৭, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
চূড়ান্ত প্রতিবেদন: টাকা জোগাতে না পারাই ফারদিনের আত্মহত্যার কারণ
ফারদিন নূর পরশ। ছবি: সংগৃহীত

‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ খুন হয়নি, বরং আত্মহত্যা করেছেন’ এমন খবর অনেক আগেই জানিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। তবে এবার ফারদিনের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয় টাকা জোগাতে না পারার বিষয়টি সামনে এসেছে। এমন তথ্য উল্লেখ করে ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আমাতুল্লাহ বুশরার অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন। এছাড়া স্পেনে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হন তিনি। এসব কারণে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা বোধ করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ফারদিন।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রামপুরা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন শিকদার। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটির শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

Advertisement

প্রতিবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ফারদিন বুয়েটের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পারিবারিক জীবনে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় তাকে পড়ালেখার ফাঁকে টিউশনি করতে হতো। স্পেনে আন্তর্জাতিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি বুয়েট থেকে মনোনীত হন। তবে স্পেনে যেতে প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করতে না পারায় হতাশায় ভুগছিলেন ফারদিন।

এসব কারণে বুয়েটে পরীক্ষার ফল ক্রমাগত খারাপ হওয়ায় জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা বোধ করতে থাকেন ফারদিন। এক পর্যায়ে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। বিষয়টি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিডিআর পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে। এরপর ২০২২ সালের ৫ নভেম্বর সুলতানা কামাল ব্রিজের ওপর থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ফারদিন। সিডিআর ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে এর সত্যতা পাওয়া যায়। তবে মামলাটির তদন্তকালে ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। 

গত বছরের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় ফারদিনের বান্ধবী বুশরাসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা পর লাশ গুম’ করার অভিযোগ তুলে রামপুরা থানায় নিহত ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে ১০ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে বুশরাকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় আদালত তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!