সামান্য বৃষ্টিতেই খেলার অনুপযোগী যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মাঠ
যশোর বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলার একমাত্র স্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। তবে অল্প একটু বৃষ্টি হলেও যবিপ্রবির এ মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠটির অধিকাংশ জায়গাই উঁচু-নিচু। অতিরিক্ত ঘাস হওয়ায় ও পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বর্ষাকালের পুরো সময়েই মাঠটিতে পানি জমে থাকায় এ সময় খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে মাঠটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটাই খেলার মাঠ হওয়ায় দ্রুতই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া নতুন মাঠ তৈরির ও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, প্রায় সারা বছরই মাঠটিতে ক্রিকেট, ফুটবল-ভলিবলের মতো খেলায় জমজমাট থাকে। এ মাঠেই আয়োজন করা হয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, আন্ত ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট। কিন্তু মাঠের পরিবেশ খেলার উপযোগী না হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
.png)
_1695649371.jpg)
এ বিষয়ে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী তিতাস মেহেদি বলেন, সাজানো গোছানো ছোট্ট ৩৫ একরের যবিপ্রবির খেলার মাঠ একটি, মোট বিভাগ ২৬টি। এত শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাসহ পদচারণায় সর্বদা মুখর থাকে মাঠটি। তারপর যখন আন্তঃবিভাগ খেলার আয়োজন থাকে তখন মাঠ পাওয়া যেন সোনার হরিণ হয়ে উঠে। প্রতিটি বিভাগের খেলা আয়োজনের জন্য মাঠটি ভাগাড়ে পরিণত হয়। তার ওপর যদি থাকে বৃষ্টির মতো বৈরী আবহাওয়া তখন জলাবদ্ধতা এবং পায়ের পাতা সমান কাদা পানি, ফসলের জমিকেও হার মানায়।
এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা দফতরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একমাত্র খেলার স্থান। যে কারণে বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মাঠটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খেলা চলতে থাকে, যার কারণে মাঠে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় নিয়ে যে আমরা মাঠে সংস্কার এর কাজ করবো, সে সুযোগও পাই না। তবে আমরা এর সমাধান নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, যদিও সম্পূর্ণ মাঠ সংস্কার করতে একটু সময় লাগবে। তবে আমরা বর্ষার শেষে সময় নিয়ে মাঠ সংস্কারের কাজ করবো। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো না, তাই আমরা পূর্ণাঙ্গ কাজ করতে পারব না। কিন্তু মাঠ সমান করব ও খেলার উপযোগী করে তুলব। শিক্ষার্থীদেরও সচেতন থাকতে হবে, মাঠটি যাতে খেলাধুলার উপযোগী থাকে। আমরা বিকল্প মাঠের আবেদন করেছি, জমি অধিগ্রহণ হলে সেখানে একটি স্টেডিয়াম হবে তবে সেটি সময় সাপেক্ষ।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী. মো. মাহবুবুস সোবহান বলেন, কেন্দ্রীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রকল্প পাশ হলে কাজ শুরু করব।