সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।
আয়োজকদের সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পিঠা গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে এ ঐতিহ্য এখন ম্লান হয়ে আসছে। তবে শীত এলে বাংলার ঘরে ঘরে এখনো পিঠা তৈরির উৎসব শুরু হয়। অগ্রহায়ণের নতুন চালের পিঠার স্বাদ সত্যিই বর্ণনাতীত।
.png)
এ সমস্ত নান্দনিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে। গ্রাম বাংলার নানা বৈচিত্র্য পিঠা সম্পর্কে শহুরে জীবনে তেমন সাড়া না জোগালেও গ্রামাঞ্চলে এখনো এর প্রচলন সমধিক।
এখানে অনেক পিঠা দেখতে পেলাম, যেগুলো আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। এ ধরনের পিঠা উৎসব তরুণ প্রজন্মের সন্তানসহ প্রত্যেকের কাছে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এসময় উপাচার্য সবাইকে উদ্দেশ্য করে এমন আয়োজন আরো বেশি করার আহ্বান জানান।

পিঠা উৎসব ঘুরে দেখা যায়, উৎসবে অংশ নেয়া জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর আলাদা আলাদা স্টল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চ, অঙ্গন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, লোকজ সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রথম আলো বন্ধুসভা এবং রঁদেভু শিপ্লীগোষ্ঠী।
এই পাঁচটি সংগঠনের স্টলে রয়েছে রকমারি পিঠা। পাটিসাপটা, পুলি, পাতা পিঠা, ঝাল পিঠা, নারকেল পিঠা, ভাপা পিঠা বানিয়েছেন কেউ কেউ। কেউ আবার নকশা পিঠা, ঝিনুক পিঠা, জামদানি, সূর্যমুখী, গোলাপি, দুধপুলি, রসপুলি, দুধরাজ, সন্দেশ, আন্দশা, মালপোয়া, পাজোয়াসহ সুন্দর সুন্দর নাম আর ভিন্ন স্বাদের কত্ত পিঠা। আয়োজকদের তথ্য মতে মেলায় প্রায় একশত পদের ভিন্ন ভিন্ন পিঠার সমাহার রয়েছে।
পিঠা উৎসবের আয়োজক সংগঠন আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি উম্মে সালমা নিঝুম বলেন, ক্যাম্পাসে লোকজ সংস্কৃতির আয়োজন খুব একটা হচ্ছে না বললেই চলে। চবি আবৃত্তি আয়োজনে বিগত কয়েক বছর ধরে পিঠা উৎসব করে আসছি। সত্যি কথা বলতে গেলে, এই আয়োজন করে আমাদের অর্থনৈতিক লাভ তো দূরের কথা বরং আরো ভর্তুকি দিতে হয়। আশা করি সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ফান্ডিং পাবো। সেটা পেলে আরো বড় পরিসরে করতে পারব।

কথা হয় ‘বন্ধুসভার’ এর স্টলে বসা মাহফুজুর রহমান এর সঙ্গে। পিঠা উৎসবে দর্শনার্থীদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের এক ধরনের উৎসবের আমেজ দেখতে পাচ্ছি। পিঠা উৎসবের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আমাদের সংগঠন একাত্মতা পোষণের পাশাপাশি সবসময়ই এমন আয়োজন অব্যাহত রাখতে চায়।
শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর পুরো উৎসবে দলবেঁধে আবার কেউবা একা এসেছেন পিঠা খেতে। খাওয়া-দাওয়া, গল্প, হাসি আড্ডায় জমে ওঠে প্রতিটা স্টল। পিঠা খেতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া মোহাম্মদ জানালেন, পড়ালেখার জন্য বাড়ি ছেড়ে অনেক দূরে থাকি। চাইলেই এখন মায়ের কাছে আবদার করে বসা যায় না। বাড়িতে থাকলে তো কত পিঠাই খেতাম। কি আর করা! তবে আজকের এই পিঠা উৎসবে নিজের পছন্দের কয়েকটা পিঠা খেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে।
আরেক শিক্ষার্থী মিশিপ্রু মারমা বলেন, ক্যাম্পাসে পিঠা উৎসবে এই প্রথম আসা। পরীক্ষার জন্য শীতের সময়েও গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হচ্ছে না। ফলে পিঠার স্বাদ থেকে একরকম বঞ্চিতই বলা যায়। তবে আজকের পিঠা উৎসবে এসে সেই শূন্যতা খানিকটা পূর্ণ হয়েছে। বন্ধুরা মিলে নানা রকম পিঠা খেয়েছি। খুবই ভালো লাগছে।
এদিকে পিঠা উৎস অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় শহিদ মিনার চত্বরে বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।