ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলী গড়তে নতুন শিক্ষাক্রমে বুটেক্স

সাইফুল ইসলাম শাহেদ, বুটেক্স
প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলী গড়তে নতুন শিক্ষাক্রমে বুটেক্স
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

দেশ ও বিদেশের আধুনিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৪৯তম ব্যাচ হতে পরবর্তী সব ব্যাচের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে। এতে প্রচলিত থিওরি এবং প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রেজেন্টেশন এবং প্রাত্যহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

জানা যায়, বুটেক্সের পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রমে প্রতিটি তিন ক্রেডিট থিওরিটিক্যাল কোর্সের ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮ নম্বর ক্লাসে উপস্থিতি, ২০ নম্বর ক্লাস টেস্ট এবং সেমিস্টার ফাইনালে ছিল ৭২ নম্বর। এ ১০০ নম্বরের মধ্যে কেবল ৪০ নম্বর পেলেই একজন শিক্ষার্থী কোর্সটিতে উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হতেন। প্রচলিত এ ব্যবস্থার অন্যতম কুফল ছিল একজন স্টুডেন্ট তার দৈনিক ক্লাসগুলোতে ঠিকমতো উপস্থিত থাকতেন না। এমনকি ক্লাস টেস্টে বাজে ফলাফল করলেও শুধু সেমিস্টার ফাইনালে বড় অঙ্কের নম্বরে পরীক্ষা দিয়ে তিনি কোর্সটি পাশ করে যেতেন। 

শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে কেবল সেমিস্টার ফাইনাল পূর্ববর্তী প্রিপারেটি লিভে (পিএল) সহপাঠীদের ক্লাসনোট পড়ে অথবা পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেমিস্টার ফাইনালের প্রস্তুতির প্রবণতা ছিল। যাতে খুব অল্প সময়ে এবং বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন ছাড়াও একজন শিক্ষার্থী ৪০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করে কোর্সটি পাশ করে যেতেন। এতে দৈনিক ক্লাসে অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের অনীহা লক্ষ করা যেত। ফলে কোর্সটির প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত হতো।

বর্তমান শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বিমুখতা কমানোর উদ্দেশ্যে এটেনডেন্সে ৫ নম্বরের পাশাপাশি ক্লাস পারফরম্যান্সের জন্যও ৫ নম্বর বরাদ্দ করা হয়। ফলে কর্তব্যরত শিক্ষকের ক্লাস টেস্টের বাইরেও তার দৈনিক অথবা সাপ্তাহিক আলোচ্য বিষয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। এতে করে শিক্ষার্থীরা কেবল ক্লাসে উপস্থিতই না বরং ক্লাসে শিক্ষকের পড়া আগ্রহ সহকারে শুনবে এবং প্রতিদিন চর্চা করবে বলে আশা করা যায়। 

আধুনিকায়নের এ যুগে একজন শিক্ষার্থীর উপস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রম অনুযায়ী অনেক শিক্ষার্থী তাত্ত্বিক বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করলেও সেটি সবার সামনে উপস্থাপনে দুর্বলতা থেকেই যেত। শিক্ষা পরবর্তী কর্মজীবনে যার নৈতিবাচক প্রভাব দেখা দিত। এ দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও শিক্ষার্থীদের এক বড় অংশ এ আওতার বাইরে রয়ে যেত। বর্তমান শিক্ষাক্রমে সব শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষ হতে প্রতিটি কোর্সে ১০ নম্বরের জন্য কমপক্ষে একটি করে প্রেজেন্টেশন দিতে বাধ্য থাকবে। প্রতিনিয়ত এই চর্চা তাদের নিজেকে এবং বিভিন্ন বিষয় সবার সামনে তুলে ধরার দক্ষতা অনেকাংশে বৃদ্ধি করবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাসুম এই বিষয়ে বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রমও একটি সফল এবং কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে একজন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের সেমিস্টারের মধ্যে কেবল এক মাসেই ৭২ ভাগের ওপর পরীক্ষা দিতে হয়, এতে তাদের ওপর সেসময় বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। সেটি দূর করার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের কন্টিনিউয়াস এসেসম্যান্টের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার জন্য শিক্ষাক্রমের এই পরিবর্তন। 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর ৬০০জন শিক্ষার্থী বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তি নেয়। পূর্ববর্তী কাঠামো প্রোগ্রাম লার্নিং অবজেক্টিভ (পিএলও) অরিয়েন্টেড ছিল। তবে আমরা কোর্স লার্নিং অবজেক্টিভ এমনকি লেকচার লার্নিং অবজেক্টিভও অর্জন করতে চাই। এতে যেমন শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে পাশাপাশি শিক্ষকরাও আরো সূক্ষ্মভাবে ছাত্রদের মূল্যায়ন করতে পারবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: বুটেক্স
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!