ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ঢাকা কলেজ: গাছে গাছে আজ মানুষের গড়া পাখির বাসা

সাইদুর রহমান, ঢাকা কলেজ
প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ঢাকা কলেজ: গাছে গাছে আজ মানুষের গড়া পাখির বাসা
শিক্ষার্থীদের তৈরি পাখির বাসাগুলোতে অনেক পাখি আপন ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করেছে।   ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শহরের ব্যস্ত জীবন। ইট পাথরের জঞ্জাল। কান পাতলে শোনা যায়- প্রকৃতির আর্তনাদ। যেখানে এক টুকরো সবুজ মেলা ভার। যেন যান্ত্রিকতা ছেয়ে গেছে সর্বত্র। এরমধ্যে ব্যতিক্রম ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস। ফুল, গাছে ডাল, হিমেল বাতাস, পুকুরের স্বচ্ছ জলরাশির সঙ্গে সূর্য কিরণের জলকেলি দেখতেই কানে আসবে পাখির কিচিরমিচির ডাক। চোখ এড়ায় না বানর দলের লাফিয়ে বেড়ানো। এ সাজের কারিগর কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ।

১৮.৫ একর আয়তনের এ ক্যাম্পাসের রঞ্জে রঞ্জে লুকিয়ে আছে প্রতিকৃতির ছোঁয়া। মূলত অ্যাকাডেমিক, আবাসিক ২ অংশ ভিন্ন সাজে সজ্জিত ক্যাম্পাস। সবুজে ঘেরা আবাসিক হলগুলো। 

ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই মন কাড়বে সারি সরি গাছ। তপ্ত দুপুরে যা ছাড়া দিয়ে সামনে এগিয়ে নিবে আপনাকে। প্রশাসন ভবনের সামনের ফুলের বাগান। ঘাসের গালিচা বিছানো সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে।

Advertisement

মূলত অ্যাকাডেমিক, আবাসিক ২ অংশ ভিন্ন সাজে সজ্জিত ক্যাম্পাস।

আবাসিক অংশ আরো নির্জন। পুকুরের স্বচ্ছ পানির জলরাশি। বর্ষায় লাল (রক্ত) শাপলা ছাড়াও অন্য ঋতুতে ফোটে নানা ফুল। দেখা যায় হাঁসের ঝিনুক কুড়াতে। ততক্ষণে গাছে গাছে থাকা বাবুই পাখির গান কানে আসবে।

মূলত জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় ক্যাম্পাসের গাছগাছালিতে লাগানো হয়েছে এসব পাখির বাসা। এই বাসার কারিগর মানুষ। 

সরজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে মাঝারি গাছের ডালপালায় ৩/৪ করে মাটির হাড়ি। এসব হাঁড়িতে পাখিরা ঘর ঘর বেঁধেছে। কোন কোন ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। 

যে শহরে মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকা দায়, সে শহরে প্রকৃতির পাখপাখালি টিকে থাকা আরো কঠিন। শহরে কাক ছাড়া অন্য পাখি খুব একটা দেখা যায় না। যার অন্যতম কারণ গাছের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। ঢাকা কলেজ কম্পাসে এর একটু ব্যতিক্রম। তাই পাখিদের অভয়ারণ্য করতে এমন উদ্যোগ।

ঢাকা কলেজে ক্যাম্পাসে শালিক, ময়না, বাবুই, চুড়ই, দোয়েল, মাছরাঙা, কাকসহ আরো নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের তৈরি পাখির বাসাগুলোতে অনেক পাখি আপন ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করেছে।  

ক্যাম্পাসের এমন পরিবেশে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসির বলেন, প্রাকৃতিক লীলাভূমি ঢাকা শহরে আমরা তেমন দেখতে পাই না। আমাদের ক্যাম্পাসে অনেক পাখির বাসা এই পাখির বাসাগুলোতে অনেক পাখি থাকে, পাখিদের রক্ষায় ভূমিকা রাখছে পাখির বাসাগুলো।

জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় ক্যাম্পাসের গাছগাছালিতে লাগানো হয়েছে এসব পাখির বাসা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাখিরা বংশবৃদ্ধির জন্য নিজের বাসা নিজে তৈরি করে। এক্ষেত্রে মানুষের করা বাসাতে পাখিরা থাকে না। থাকলেও এটি পাখিদের জন্য কতটুকু উপকারী, না উলটো হুমকি এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা কলেজ প্রাণিবিদ্যা বিভাগ বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শরীফা সুলতানা সঙ্গে।

তিনি বলেন, সাধারণত পাখিরা অন্যের করা বাসাতে থাকে না, যদি খুব সংকটে পড়ে তাহলে ভিন্ন বিষয়। বংশবৃদ্ধি, ডিম ফুটানো ও বাচ্চা ফোটানোর জন্য পাখিরা বাসা তৈরি করে থাকে। আর প্রত্যেক জীবের রিপ্রডাকশন এর ক্ষমতা থাকে। যে জীবের থাকে না, তা জীব হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসের গাছগাছালিতে বাবুই পাখির বাসায় লাগানোর লক্ষ ক্যাম্পাসকে দৃষ্টিনন্দন করা। এগুলো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেকগুলো বানরের অভয়ারণ্য ঢাকা কলেজ। ঢাকা শহরে এমন সবুজ বনবিশিষ্ট বিদ্যায়তনের সংখ্যা খুব কম। আমি ভাবলাম, পাখিগুলোকে কীভাবে নিরাপদ করা যায়! সেই লক্ষ্যে কিছু বাসা স্থাপন করেছি। আরো করব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: ঢাকা কলেজ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!