ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

স্ট্রেচারে চলা বকুল স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষার

আলজাবের আহমেদ, রাবি
প্রকাশিত: ১৯:০৪, ৫ মার্চ ২০২৪
স্ট্রেচারে চলা বকুল স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষার
বকুল চন্দ্র রায়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বপ্নবাজদের সঙ্গে অভিভাবকেরাও ভিড় জমিয়েছেন মতিহারের সবুজ ক্যাম্পাসটিতে। স্বাভাবিক চলাচলে সক্ষম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন শারীরিকভাবে অক্ষম শিক্ষার্থীরাও। তাদেরও স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। নিজের মধ্যে লালিত স্বপ্নকে পূরণ করার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখা যায় দুর্ঘটনায় পা হারানো এক ভর্তিযোদ্ধাকে। স্ট্রেচার ছাড়া চলাচল করতে পারেন না তিনি। এদিক-ওদিকে তাকাচ্ছিলেন। পরীক্ষা শেষের এই সময়টাতে তার জীবনের গল্প শুনতে কাছে গেলেন এই প্রতিবেদক। 

জানা যায়, ঐ ভর্তিযোদ্ধার নাম বকুল চন্দ্র রায়। উত্তরের জেলা দিনাজপুরে তার বাসা। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছেন স্থানীয় একটি কলেজ থেকে। জানালেন পা হারানোর বিষয়টি। একদম ছোটবেলায় রাস্তা পার হতে গিয়ে হারিয়েছেন একটি পা। তার মতো সমাজের অন্যান্যদের মতো দমে যাননি এই স্বপ্নবাজ ভর্তিযোদ্ধা। 

Advertisement

সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, পা হারানোর পর সুস্থ হয়ে ভর্তি হন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তখন শুরুর দিনগুলোতে পরিবারের কাউকে বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতে হতো। দীর্ঘ সময় এভাবেই পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন তিনি। 
পরে শুরু হয় স্ট্রেচারে করে চলার যাত্রা। এতে পরিবারের লোকজনের কষ্ট লাঘব হলেও তার জীবনে শুরু হয় নতুন এক মাত্রা। স্বপ্ন দেখেন দমে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। 

পরিবারের বর্ণনা দিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, স্বল্প আয়ের পরিবারে তিনিই প্রথম সন্তান। বাবা প্রান্তিক কৃষক। অভাব থাকা সত্ত্বেও কখনো বুঝতে দেয়নি তাকে। তবে পরিবার থেকে পেয়েছেন সব ধরনের সাপোর্ট।

একপায়ের শূন্যতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি স্বপ্ন দেখার পথে। উচ্চমাধ্যমিক শেষে বকুল রায় স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষা অর্জনের। বকুল পরীক্ষা দিয়েছেন ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগ্রহ অনেক বেশি। কারণও বললেন নিজেই, পরিবারের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছের কারণেই হয়ত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত 'সি' ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। ফলাফল নিয়ে আশাবাদী বকুল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!