ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

মেধাবৃত্তিতে সাংবাদিকতায় পড়ার সুযোগ

আমিনুল ইসলাম, অতীশ দীপংকর
প্রকাশিত: ১৪:২০, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
মেধাবৃত্তিতে সাংবাদিকতায় পড়ার সুযোগ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্মানজনক এই পেশায় আসতে চান অনেকেই। মূলধারার গণমাধ্যমে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে প্রয়োজন যথাযথ শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা। দিন গড়ানোর সাথে সাথে দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে গণমাধ্যমের সংখ্যাও। মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ছাপা পত্রিকার দিন পেরিয়ে গণমাধ্যম প্রবেশ করেছে নতুন সূচকে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেশ তথা বিশ্ব গণমাধ্যমে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। যেখানে ছাপা পত্রিকা পড়ার জন্য ঘটে যাওয়া ঘটনার পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো সেইদিন পেরিয়ে গণমাধ্যম এখন প্রযুক্তির কল্যাণে পেয়েছে নতুন মাত্রা। 

ছাপা পত্রিকার কদর থাকলেও হালের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে খবর পড়তেই বেশি ঝুঁকছেন মানুষ। যেখানে মুহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের সংবাদ জানতে পারছেন নিমিষেই। বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে শিক্ষার্থীরা ছুটছেন দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্মানজনক এই পেশায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন সারথি হতে সম্প্রতি দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। 

সম্পূর্ণ এই নতুন বিভাগটিতে রয়েছেন পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন শিক্ষক প্যানেল, নিজস্ব নিউজ স্টুডিও, প্রয়োজনীয় ইন্সট্রুমেন্ট, ক্যাম্পাস টিভি, ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাণের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিষয় সংশ্লিষ্ট বই দ্বারা নির্মিত বিশালাকার লাইব্রেরি ছাড়াও বিভাগটিতে রয়েছে বিশ্বমানের মিডিয়া ল্যাবের সুবিধা। প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় পড়াশোনার পাশাপাশি রয়েছে দেশের বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে খন্ডখালীন চাকরি ও ইন্টার্নশিপের সুবিধা। সাংবাদিকতার সম্মুখ ধারণা দিতে হাতে কলমে শিক্ষা দিতে রয়েছেন একঝাঁক শিক্ষক। 

Advertisement

বিভাগটির পাঠ্যসূচিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকতা, যোগাযোগ, নিউ মিডিয়া ও চলচ্চিত্র সম্পর্কিত বিষয়কে। এছাড়াও পাঠ্যসূচিতে ল্যাব ও ইন্টার্নশিপের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক মানের সেবা দিয়ে যোগ্য করে গড়ে তোলাই এই বিভাগের মূল লক্ষ্য। 

প্রোগ্রামটিতে শিক্ষার্থীরা টেলিভিশন, সংবাদপত্র, রেডিও, ডিজিটাল জার্নালিজম, পাবলিক রিলেশনস, ডিজিটাল ফিল্ম অ্যান্ড টিভি প্রোডাকশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন,  এনিমেশন, ভিডিও এডিটিং, নিউজ রিপোর্টিং, করপোরেট কমিউনিকেশন, নিউ মিডিয়া, ব্রডকাস্ট জার্নালিজম ও ফটো জার্নালিজমের বিষয়গুলো অধ্যয়ন করতে পারবে। 

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সব নিয়মকানুন মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করায় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সনদপ্রাপ্তির গৌরব অর্জন করে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র উত্তরা মডেল টাউনের ১৫ নম্বর সেক্টর ও মেট্রোরেলের স্টেশনের কূল ঘেঁষে নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে ক্যাম্পাসটি অবস্থিত। 

ক্যাম্পাসে নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে খুব সহজে এই ক্যাম্পাসে যাতায়াত করা সম্ভব। এখানে রয়েছে অ্যাকাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, কমনরুম ও ক্যান্টিনসহ নানা সুবিধা।  

৪ বছর মেয়াদি স্নাতক প্রোগ্রামটি শেষ করতে শিক্ষার্থীদের গুণতে হবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। তবে মেধাভিত্তিক শতভাগ শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন। এছাড়া, অন্যান্য শিক্ষার্থী যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী, নারী শিক্ষার্থী ও উপজাতিদের জন্য বৃত্তি সুবিধা চালু রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!