তাপপ্রবাহের মধ্যে খুলেছে স্কুল, ক্লাসে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই খুলেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। টানা এক মাস তিনদিন বন্ধ থাকার পর যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে, তখন দেশের ইতিহাসে তাপমাত্রা ৭৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। এমন অবস্থায় স্কুল খোলার প্রথম দিনেই শ্রেণিকক্ষে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাপপ্রবাহের মধ্যে স্কুল খুলে দেওয়ায় অভিভাবকরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, তীব্র দাবদাহের মধ্যেই রোববার সকাল থেকে ক্লাস শুরু হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এদিন যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে দেখা যায়, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। অনেকে সঙ্গে করে পানি ও জুস নিয়ে এসেছেন।
এমন তাপপ্রবাহের মধ্যে স্কুলে এসে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তারা ক্লাস না করেই বাসায় ফিরে গেছে। যাতায়াতের সময়ও অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ক্লাস করতেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। অভিভাবকদের দাবি, গরমের এই তীব্রতার মধ্যে স্কুল বন্ধ কিংবা অনলাইনে ক্লাস নিলে সেটি ভালো হয়।
.png)
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফসা আক্তার জানায়, সকাল ৭টায় তাদের ক্লাস শুরু হয়। সাড়ে ৯টায় ছুটি হয়। ছুটি শেষে এক শিক্ষার্থী বমি করে। অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে ঐ শিক্ষার্থীর মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে ছিলেন না অনেক অভিভাবক। তারা বলছেন, শিশুদের কথা বিবেচনা করে সরকার আরো অন্তত এক সপ্তাহ পরে স্কুল খুলতে পারত। বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে গরমের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কীভাবে তারা ক্লাস করবে?
এক অভিভাবক বলেন, এই গরমের মধ্যে স্কুল খোলা ঠিক হয়নি। আগে সুস্থতা দরকার। সপ্তাহখানেক পরে বা ১০ দিন পরে তাপমাত্রা কমে যেত। একটু অপেক্ষা করলে কী এমন হতো? আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা সমর্থন করছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, এখন যে কারিকুলাম দেওয়া হয়েছে, সেটা আমরাই বুঝি না। আমাদেরকে বাইরের দেশের উদাহরণ দেওয়া হয়। কিন্তু বাইরের দেশের মতো অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র পাল বলেন, আজ স্কুল খুলেছে, ক্লাস হচ্ছে। আমাদের শাখায় সব ক্লাসে উপস্থিতি স্বাভাবিক। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা হাঁপিয়েও উঠছে। তবে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা আমাদের স্কুলে নেই।
গত ৩১ মার্চ থেকে দেশে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ২৮ দিন ধরে টানা এ অবস্থা চলছে, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটির পর আর স্কুল খোলেনি সরকার। অসহনীয় গরমের কারণে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
গরমে শিশুদের ‘অতি উচ্চ ঝুঁকির’ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলেছে ইউনিসেফ। তবে সাতদিন ক্লাস বন্ধ রাখার পর ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে কারণে রোববার থেকেই ক্লাসে ফিরতে হয়েছে শিশুদের।