ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ঢাবির ক্যান্টিনের মুরগি-ভর্তায় ১৪ ব্যাকটেরিয়া!

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:১৬, ৬ অক্টোবর ২০২৪
ঢাবির ক্যান্টিনের মুরগি-ভর্তায় ১৪ ব্যাকটেরিয়া!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলের খাবারের মানের সঙ্গে দামের অসামঞ্জস্য অভিযোগ শিক্ষার্থীদের বহু পুরোনো। দাম অনুযায়ী মান নিশ্চিত না করার অভিযোগে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঢাবি হলের ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে সংবাদও প্রচার হয়েছে। তারপরে এসব তোয়াক্কা করে না ক্যান্টিন মালিকেরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ঢাবির ৫টি ক্যান্টিন থেকে আলুর ভর্তা ও মুরগির মাংসে প্রাণনাশী ব্যাকটেরিয়া ই-কোলাইসহ ১৪ ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া মিলেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের তালিকায় মুরগি মাংসের চাহিদা বেশি থাকে। দাম অনুযায়ী মুরগির মাংসের নানা পদ। এছাড়া মুরগির মাংসের পরই দ্বিতীয় ও কম টাকায় খাবারে পছন্দ তালিকায় রয়েছে আলু ভর্তা। 

গবেষণায় বলছে, ক্যান্টিনের রান্না করা মুরগির মাংসে ক্লোস্ট্রিডিয়াম ব্যাকটেরিয়া আছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মাংস রান্না করার সময় তা ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় না; যার ফলে মাংসে এই ব্যাকটেরিয়া থেকেই যায়।

Advertisement

দুই ধরনের খাবারেই ‘প্রোটিয়াস’ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। কিডনিতে পাথর জমাতে এই ব্যাকটেরিয়া কাজ করে। এছাড়াও, ক্লেবসিয়েলা, সালমোনেলা, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার সন্ধানও পাওয়া গেছে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও কলেরার মতো রোগের জন্ম দিতে পারে। প্রতিদিন ক্যান্টিনে খাবারের মাধ্যমে এমন আরো ৯ ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ই-কোলাই। ই-কোলাই প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এই ব্যাকটেরিয়া এতটাই শক্তিশালী যা মানবদেহে সংক্রমণ ঘটিয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।

এই গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শারমিন রুমি আলিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এই গবেষণার দুই পদের খাবারে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পেয়েছি যা মানুষের প্রাণনাশের মতোই শক্তিশালী। হলের খাবার যেহেতু রান্না করার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা খেয়ে থাকে তাই ঐ খাবারে বাইরের ক্যাফে থেকে তুলনামূলক ক্ষতি কম হয়। বাইরে ক্যাফেগুলোতে খাবার রেখে দেওয়া হয় ফলে দীর্ঘসময় সেটি বাইরে অবস্থান করে এবং এতে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়াযুক্ত এই খাবার খাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষণা পরিচালনা করতে কোন ক্যান্টিনগুলো থেকে স্যাম্পল কালেকশন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনের ক্যাফে, সায়েন্স লাইব্রেরির পাশের ক্যাফেসহ হলের বাইরে যে ক্যাফেটেরিয়াগুলো আছে, সেগুলোর খাবারের ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। 
 
শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ ও মনিটরিং টিম গঠন: এদিকে গবেষণার এমন ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মাস্টার দা’ সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী কামরুল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, হলের খাবারে মান আগে যেমন ছিল এখনো তেমনই রয়েছে, কোনো পরিবর্তন নাই। দাম অনেক বেশি হলেও মানের একেবারেই নিচে অথচ একই টাকায় অন্য হলে ভালো খাবার পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আগে বলা হতো ছাত্রলীগ খেয়ে টাকা দেয় না। তাই দাম বেশি পড়ে যায়। যদিও তার সত্যতা আমরা ক্যান্টিনগুলোতে বাকির খাতায় পেয়েছি। এখন তারা যাওয়ার পরও খাবার মান যে আগের মতনই থাকে সেটি বোধগম্য হয় না।

এদিকে খাবারের মান বাড়াতে বেশ কয়েকটি হলের ক্যান্টিনের দায়িত্বরতদের পরিবর্তনও করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষ থেকে একজন করে পাঁচজন শিক্ষার্থী ক্যান্টিন মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

হল প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মনিটরিং পাশাপাশি হল প্রশাসনের তৎপরতা মাধ্যমে হলের খাবারের মান নিশ্চিত সম্ভব হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!