জানা গেছে, গত ২৬ নভেম্বর বুধবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ট্রেজারার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু হেনা মোস্তফা কামাল খান নিয়োগ পান। গত ২৬ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতে যান। তবে নানা অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা তাকে যোগদানে বাধা দেন।
পরবর্তীতে বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে ক্যাম্পাস প্রবেশের সব গেটে তালাবন্ধ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ববির ১২৭ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ট্রেজারারের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদলিপি প্রদান করেন এবং ফ্যাসিস্টের দোসরদের নিয়োগের বিরুদ্ধে কর্মচারীরা ঐদিন বিকাল ৩টায় গ্রাউন্ড ফ্লোরে মানববন্ধন করেন।
.png)
বুধবার (২৭ নভেম্বর) ক্যাম্পাসে কাজে যোগদান করতে না পেরে ট্রেজারার আবু হেনা রনি মোস্তাফা কামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অর্থ তার নামে অ্যাকাউন্ট করে ট্রান্সফার করতে হবে বলে সোনালী ব্যাংকের ববি শাখার ম্যানেজার ড. দিপু রাণী ভৌমিককে চাপ প্রয়োগ করেন। দিপু রাণী ভৌমিক প্রাথমিকভাবে এসব বিষয়ে রাজি না হওয়ায় তিনি বরিশালের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ববি শাখার ম্যানেজারকে অর্থের বিষয়টি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন।
এসব বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ববি শাখার ম্যানেজার দিপু রাণী ভৌমিক বলেন, বুধবার রাতে কর্পোরেটে শাখার ডিজিএম (কর্পোরেটের) সঙ্গে প্রথমে ট্রেজারার আবু হেনা আলোচনা করলে কর্পোরেট শাখা থেকে আমাদের ভার্সিটি শাখায় যোগাযোগ করতে বলে। তখন বুধবার রাতে পৌনে ৭ টায়, তিনি আমাকে ফোন দিয়ে ভার্সিটির একটা অ্যাকাউন্ট করতে চান এবং ভিসির স্বাক্ষর পরিবর্তন করে আমার স্বাক্ষর যুক্ত করে করতে হবে এবং আজকে মধ্যে করার সম্ভব কি না জানতে চান। অফিস টাইম এবং নিয়ম বহির্ভূত এ কাজ করতে অস্বীকার করলে আমাকে ক্যাম্পাসের বাহিরে দেখার করার জন্যও চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি ডিজিএমদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-অনুযায়ী উপাচার্য অর্থ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে উপাচার্য যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন, তবে সেটি সিন্ডিকেটের অনুমতি সাপেক্ষে ও রেজুলেশন বইয়ে উপাচার্যের লিখিত স্বাক্ষর ব্যতীত বিষয়টি বৈধ নয়। ট্রেজারার (আবু হেনা মোস্তফা কামাল) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস নিতে চাচ্ছেন বলে মনে হয়েছে আমার।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিব আহমেদ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এক কর্মকর্তা যার নামে অনেক অভিযোগ, সে ট্রেজারার হিসেবে যোগদানের আগে অর্থের অ্যাকসেস নিতে চায়, এটা নিয়ে শঙ্কিত এজন্য তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে যোগদানের সহায়তা করার জন্য উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বলেন, বিতর্কিত ট্রেজারারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের প্রতিবাদলিপি শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বেআইনিভাবে ট্রেজারারকে এখন পর্যন্ত গাড়ি ব্যবহার করতে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড তার হাতে তুলে দেওয়া কতোটা যৌক্তিক?
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মকর্তা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে অচিরেই এ বিশ্ববিদ্যালয় দেউলিয়া হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার অবগত করলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন দেখিয়েছি। আইন অনুযায়ী এটা ট্রেজারার করতে পারেন না।
সোনালী ব্যাংকের বরিশাল অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, ‘ট্রেজারার আমাদের কাছে এসেছিল। আমাদের ম্যাসেজ তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের বিষয়। সুতরাং আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলাপ নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমাকে ওপর থেকে নিষেধ করা হয়েছে কারো সঙ্গে কথা না বলতে। আমি খুবই দুঃখিত, এই মুহূর্তে আমি কোনো কথা বলব না।’
সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন বলেন, আমি কাজের মধ্যে আছি, এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না৷