ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

গবেষণা-উদ্ভাবনে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই: উপাচার্য

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১১, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গবেষণা-উদ্ভাবনে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই: উপাচার্য
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গবেষণা, উদ্ভাবন ও যুগোপযোগী প্রকৌশল শিক্ষার মাধ্যমে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)কে দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডুয়েটের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান। এবারের ডুয়েট ডে-এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট’।

উপাচার্য বলেন, দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে ডুয়েট একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। যুগোপযোগী ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ডুয়েটকে স্বয়ংসম্পূর্ণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বদরবারে অনন্য করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

Advertisement

দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে ডুয়েট ডে-এর উদ্বোধন করা হয়। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ডীনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা হিসেবে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।

উপাচার্য আরও বলেন, ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের বাইরেও ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন।

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডেটা, ন্যানোটেকনোলজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বিকাশ নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ বাস্তবতায় প্রকৌশল শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাকে ডুয়েটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই ডুয়েটের মূল লক্ষ্য।
দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক বনাম ডুয়েট এলামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!