ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে চবিতে মানববন্ধন

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:২৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে চবিতে মানববন্ধন
ডেইলি বাংলাদেশ

১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর খসড়া অনুমোদনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চাকসুর উদ্যোগে এ প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘বেশি নম্বর ভাইভায়, নিজের লোক চাকরি পায়’, ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’ এবং ‘নব্য কোটার গতিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ চাকসু ও হল সংসদের নেতারা।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ১১ ও ১২তম গ্রেডে ৫০ নম্বরের ভাইভা রেখে দলীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) নিজেদের লোক বসিয়ে দলীয়করণের চেষ্টা করা হলে ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মেধার মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যথায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নামতে হবে।’ কোনোভাবেই বৈষম্য ও অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, দুই বছর আগে কোটা প্রথা ও প্রশাসনের দলীয়করণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন। বহু মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরিবর্তন এলেও আবারও একই ধরনের দলীয়করণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে স্থানীয় কমিটির হাতে ক্ষমতা দিয়ে এবং সেখানে দলীয় নেতাদের যুক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। একইভাবে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাঈদ বিন হাবিব আরও বলেন, স্বায়ত্তশাসিত ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় লোক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ত্যাগ বা নির্যাতনের বিষয়কে সামনে রেখে শুধু নির্দিষ্ট দলের লোকজনকে সুবিধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনিক দায়িত্বে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাটুকার ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের পরামর্শে প্রশাসন পরিচালনা না করার জন্য তারা আহ্বান জানাচ্ছেন। কোটা ও দলীয়করণের মাধ্যমে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করার চেষ্টা হলে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

চাকসুর সহদপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার উদ্যোগ আরেক ধরনের বৈষম্য তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ভাইভায় নম্বর বেশি থাকলে দলীয় নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ে উল্লেখ করে নম্বর কমানোর কথা বলেছিলেন। এখন ক্ষমতায় এসে সেই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ তাঁর বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভয়েস অব স্টুডেন্টের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি বৈষম্য দূর করা হয়েছে, এবার নতুন বৈষম্যের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করা হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কোনোভাবেই বেইমানি করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে যে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা হয়েছে, সেখানে নতুন কোনো বৈষম্য তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!