ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় পিবিআই ঢাকা জেলা ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে (৪৪) আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র ও হ্যান্ড পার্স। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
.png)
পিবিআই-এর তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আসামি মনিরুজ্জামান হৃদয় ও নিহত আলমগীর কবির (৪৫) পূর্বপরিচিত ছিলেন। হৃদয় সবজির ব্যবসা করতেন এবং নিহতদের বাসা থেকে তার বাসার দূরত্ব ছিল প্রায় ১০ মিনিটের পথ। নিহত আলমগীরের স্ত্রী নাজমা খাতুনের (৩৯) সঙ্গে বিয়ের পূর্ব থেকেই হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ও শারীরিক যোগাযোগ ছিল।
পরবর্তীতে নাজমার স্বামী আলমগীর বিষয়টি জানতে পারলে হৃদয়ের সঙ্গে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর আসামি হৃদয়কে তাদের জামগড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পুরনো সম্পর্ক ও পরকীয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমগীর ও নাজমা হৃদয়ের ওপর চড়াও হন। ধস্তাধস্তির সময় হৃদয় গর্ভবতী নাজমার পেটে সজোরে লাথি মারলে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নাজমা ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়।
পরবর্তী সময়ে আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে আক্রমণ করলে হৃদয় ক্ষিপ্ত হয়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নির্মম এই ট্রিপল মার্ডারের পর তিনজনের মরদেহ খাটের ওপর ফেলে রেখে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান হৃদয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে নাজমার মোবাইল, সিম, পার্স ও অফিসের পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যায়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ৫৬ নম্বর কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ কক্ষ খুললে আলমগীর কবির, নাজমা খাতুন এবং তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত নাজমার বড় বোন মোসা. শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২২ সালের আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলায় ২০২৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছিল।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। ভিকটিমদের অতীত চলাফেরা ও সম্পর্কের সূত্র ধরে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।a