ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ফিশিং লিংকের ফাঁদে ব্যাংক হিসাব খালি, ধরা পড়ল চক্রের ২ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:১৯, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিশিং লিংকের ফাঁদে ব্যাংক হিসাব খালি, ধরা পড়ল চক্রের ২ সদস্য
ডেইলি বাংলাদেশ

মোবাইলে ‘সফটওয়্যার আপডেট করুন’—এমন একটি বার্তা আসে। বিশ্বাস করে লিংকে ক্লিক করার পরই ফোনের ডিসপ্লে কালো হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ফোনটি সচল হলেও ততক্ষণে ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

Advertisement

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তাদের গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

গ্রেফতার দুজন হলেন—নীলফামারীর শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) এবং রংপুরের মো. সাগর হোসেন (২৮)।

সিআইডি জানায়, গত ২ জুন এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেটের নামে একটি ভুয়া বার্তা আসে। বার্তার সঙ্গে থাকা ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরপরই তার ফোন লক হয়ে যায় এবং ডিভাইসটির নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যায়।

পরে ফোনটি আবার সচল হলে তিনি দেখতে পান, তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হলে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এরপর ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রংপুরের ডিসি বাংলো মোড়ের গোমস্তাপাড়া ও হনুমানতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেক বই, একটি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, একটি ভিসা ডেবিট কার্ড এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন জানিয়েছেন, তারা ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই টাকা বিদেশে অবস্থানরত মূল চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পেতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এদিকে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে সংস্থাটি জানিয়েছে, অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সফটওয়্যার আপডেট, পুরস্কার, চাকরি কিংবা ব্যাংকিং অফারসংক্রান্ত সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো বার্তা পাওয়ার পর মোবাইল ফোন অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!