রোববার সকালে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২১ জন কর্মী। এরমধ্যে ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
.png)
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য রক্তের প্রয়োজন। বিশেষ করে এবি পজেটিভ ‘ও’ নেগেটিভ এবং ‘এ’ নেগেটিভ রক্তের চাহিদা বেশি। স্বেচ্ছাসেবকরা প্ল্যাকার্ড হাতে নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন লেখা কাগজ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে রেডক্রিসেন্টের সদস্যরাও হ্যান্ডমাইকে একের পর এক ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে আহতদের সাহায্যে চমেক হাসপাতালে শত শত স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন এবং বিনামূল্যেও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
সেই আবেদনে সাড়া দিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান এবং জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তারা দুইজনই নিজেদের ফেসবুক পেছে ছবিসহ পোস্ট দিয়ে সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে আহতদের জন্য রক্তের আবেদন করেছেন।

ফারহান আহমেদ জোভান নিজের ফেসবুকে লিখেছেন- ক্যান্টনমেন্টে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু ডোনার ওদিকে যান। সবাই চট্টগ্রাম হাসপাতালে ভিড় করলে সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতাহতরা সংকটে পড়বে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রচুর ভিড়। কয়েক মিনিট পরপর একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ঢুকছে। র্যাবের গাড়ি করেও হতাহত আসতেছে। ভিড়ের কারণে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভিড় না বাড়িয়ে কাজ সেরে চলে যান। প্রচুর পানি লাগছে। হতাহতরা আগুনে পোড়ার কারণে ক্ষতস্থানে পানি ঢালা লাগছে, খাইতেও লাগছে। সঙ্গে করে পানির বোতল নিয়ে আসুন। পজিটিভ গ্রুপের চেয়েও নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত বেশি লাগছে। পজিটিভ গ্রুপের রক্তদাতারা বেশিক্ষণ থেকে ভিড় বাড়ানোর দরকার নেই। ব্যথানাশক প্যাথেডিন লাগছে বেশি বেশি। যারা যাচ্ছেন, তারা পারলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে তুলে দিয়ে চলে আসলেই হবে।

এদিকে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ঘটনাটি ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবু স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে প্রথমটিতে তিনি লেখেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কনটেইনার ডিপোতে রাত ১১টায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। কিছু হতাহতের খবর শোনা যাচ্ছে, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ঘটনার পরপরই আহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। চট্টগ্রামের সব কটি সরকারি/বেসরকারি হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্স ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ হতে অতিদ্রুত সীতাকুন্ডে যেতে বলা হচ্ছে। চট্টগ্রাম হাসপাতালে আহতদের রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। আশেপাশের সবাই রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকুন। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।
পরের স্ট্যাটাসটিতে তিনি লেখেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কোন আহত ব্যক্তির জরুরী ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হলে কমেন্টে জানাবেন। আমি পেজে পোস্ট করে দিবো যাতে সেই রক্তের গ্রুপের কেউ গিয়ে সাথে সাথে রক্ত দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, বিস্ফোরণের পর এখনও পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। হতাহতের চিকিৎসায় চকবাজার মেডিকেল গেটের সামনের গলির ভেতরের হাসান ফার্মেসি নামের এক ওষুধের দোকান ইতোমধ্যেই বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে।