কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে সনাতন পদ্ধতিগুলো। এখন কৃষক আধুনিক পদ্ধতির রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে ফসল চাষাবাদ করে এবং রোগবালাই দমন করে।
তবে কিছু কৃষক এখনো সেই সনাতন কাকতাড়ুয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল রক্ষার জন্য। গ্রাম ঘুরে দেখা যাবে মাঠের পর মাঠ ধানের ক্ষেত। হঠাৎ দু-একটি ধানের জমিতে চোখে পড়ে কাকতারুয়া। দূর থেকে দেখে মনে হবে কেউ জমিতে দাঁড়িয়ে আছে।
.png)
কৃষকদের বিশ্বাস কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করলে জমির ফসল ভালো হয়, কারো নজর লাগে না এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যাগেও ফসল ভালো থাকে।

কাকতাড়ুয়া তৈরির পদ্ধতি বেশ সহজ। বাঁশ, খড়, মাটির হাড়ি, দড়ি, কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় কাকতাড়ুয়া। যা দেখতে অনেকটা দু হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মতো। মাথার আকৃতি দিতে কেউ খড় ব্যাবহার করে। খরের ওপর কাপড় পেঁচিয়ে আবার কেউবা মাটির হাড়ি বসিয়ে হাড়িতে সাদা রঙ বা কয়লা দিয়ে চোখ মুখের ছবি একে দেয় যা দেখতে কিছুটা মানুষের প্রতিকৃতির মতো হয়। এরপর শরীর ঢাকতে পুরনো শার্ট বা গেঞ্জি পরিয়ে ফসলের জমিতে পুঁতে রাখে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে। পশু প্রাণীরা একে মানুষ ভেবে বিভ্রান্ত হয়।
তবে কাকতারুয়া বিষয়ে আদি বিশ্বাসের ভিত্তি না থাকলেও, কাকতারুয়ার কিছু উপকারিতাও আছে। কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করে ফসলের জমিতে ইঁদুর দমনে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া নিশাচর প্রাণীরা জমিতে বিচরণ করার সময় ভয় পায় ফসলেরও সুরক্ষা হয়।
স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে কাকতাড়ুয়ার ব্যাবহার ছিল চোখে পরার মতো। কৃষি বিভাগের নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি আবিষ্কার করার ফলে পরবর্তী সময়ে এই পদ্ধতিগুলো বিলুপ্ত হতে শুরু করে। তবে কিছু কৃষক এখনো কাকতাড়ুয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে।