ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

রানা প্লাজা ট্রাজেডি: ৯ বছরে অশ্রুসিক্ত ছবির দৃশ্যপট

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৪ এপ্রিল ২০২২
রানা প্লাজা ট্রাজেডি: ৯ বছরে অশ্রুসিক্ত ছবির দৃশ্যপট
রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডি দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। রানা প্লাজা ট্রাজেডির নয় বছর ইতি হলো আজ রোববার (২৪ এপ্রিল)। বিচার না পেয়ে আজও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা। 

রানা প্লাজা ট্রাজেডির কিছু অশ্রুসিক্ত ফাইল ছবিতে দেখুন একটি ফটো ফিচার।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

Advertisement

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা ভবন। ওই ঘটনায় এক হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত ও পঙ্গু হন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রানা প্লাজা ভবনটি। দুর্ঘটনার সময় ভবনের মধ্যে শ্রমিকরা ছিল তালাবদ্ধ। বাংলাদেশ তো বটেই গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয় এই শিল্প দুর্ঘটনা।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

ভবনটির তৃতীয়তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা। এতে প্রায় পাঁচ হাজার পোশাক শ্রমিক কাজ করতেন। সকালে হঠাৎ করেই বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে ভবনটি। 

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

ভবনটি অনিরাপদ জেনেও, শ্রমিকরা সেদিন তাদের মজুরি হারানোর হুমকির মুখে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিল । বাংলাদেশের মানুষ এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা ভুলতে পারেনি। ভুলতে পারেনি তাদেরকে, যারা এখানে জীবন দিয়েছেন।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

জীবিত থেকেও অনেকের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে এখানে। এ ঘটনায় মৃত্যের স্বজনরা আজও রানা প্লাজার স্মৃতি স্মরণ করে আতকে ওঠে।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এ ট্রাজেডিতে নিহত এবং আহত শ্রমিকেরা বিচারের দাবিতে এখনও প্রতিদিন ভিড় করেন ঘটনাস্থলে। হারানো স্বজনরা বিলাপ করেন বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নির্মিত রানা প্লাজার স্মৃতিস্তম্ভের সামনে। 

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ভবনের মালিক রানা, তার পরিবার, সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়রসহ বিভিন্ন জনের নামে পাঁচটি মামলা হয়। এ ঘটনার মূল মামলার ছয় বছর আগে বিচার শুরু হলেও এখনও কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। 

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

সাভার মডেল থানার তৎকালীন এসআই ওয়ালী আশরাফ ভবন নির্মাণে ‘অবহেলা ও ত্রুটিজনিত হত্যার’ অভিযোগ এনে মামলা করেন।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে রানার বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৪১ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন কেবল ভবনের মালিক সোহেল রানা। বাকি আসামিদের মধ্যে জামিনে আছেন ৩২ জন, পলাতক ছয়জন ও মারা গেছেন দুজন।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনরা এখনও ব্যারিকেডের সামনে তার নিখোঁজ ছেলে-মেয়ের জন্য অপেক্ষা করে। ব্যারিকেডের ওপারে ধ্বংসাবশেষ।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

ধ্বংসস্তূপ অপসারণের পর ১৮ শতাংশ জমির উপর নির্মিত ভয়াল সেই ঘটনাস্থলের চারপাশটা কাঁটাতার ও টিনের বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। এর সামনেই বিভিন্ন সংগঠন তৈরি করেছে শহীদ বেদি।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

শোকাবহ দিনটি ঘিরে রানা প্লাজায় আহত, নিহত আর নিখোঁজ স্বজনের আনাগোনা বেড়েছে শহীদ বেদির সামনে। ক্ষতিপূরণসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।

রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ফাইল ছবি

রানা প্লাজা ধ্বসের পর এর পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের উপলব্ধি থেকে ‘বাংলাদেশে অগ্নি ও বিল্ডিং নিরাপত্তা চুক্তি (এ্যাকোর্ড) এর সৃষ্টি হয়। ২০০ টিরও বেশি ব্র্যান্ড, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির অধীনে, ইউনিয়নগুলি ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য আদালতে মামলা করতে পারবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!