পুলিশের যাতে কোনো সন্দেহ না হয় এবং পাড়াপড়শিরা যাতে রম্যার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বাস করেন, তাই খুনের ছয় মাস পরে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারাক্কাল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন সঞ্জীব। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে রম্যা পালিয়ে গিয়েছেন বলে মাস ছয়েক আগে পড়শিদের জানিয়েছিলেন সঞ্জীব। সেই সময় থানায় অভিযোগ না জানিয়ে ঘটনার ছয় মাস পরে কেন নিখোঁজ ডায়েরি করলেন সঞ্জীব, তা নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের।
সঞ্জীবের অভিযোগ পুলিশ নিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার গতিবিধির উপরও নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা। এক তদন্তকারী জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে সঞ্জীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছিল। পাড়াপড়শি, আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে বেশ কয়েকটি সূত্র পেয়েছিল পুলিশ। সেই সূত্র ধরে এগোতে সঞ্জীবের বাড়িতে তল্লাশি চালায় তারা। তখন তদন্তকারীদের নজরে আসে ঘরের মেঝেতে এক জায়গা একটু এবড়োখেবড়ো হয়ে রয়েছে। তবে সেখানে নতুন করে সিমেন্টও মারা হয়েছিল। আর ঐ মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে এক নারীর দেহাংশ।
.png)
এর পরই পুলিশ সঞ্জীবকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ফোনে কথা বলা নিয়ে রম্যার সঙ্গে বচসা হয়েছিল তার। আর সেই রাগেই তাকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ ঘরের মধ্যে পুঁতে দিয়েছিলেন। পড়শিদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সঞ্জীব তাদের জানিয়েছিলেন, খুব শীঘ্রই বিয়ে করতে চলেছেন তিনি। শুধুই বচসার জেরে খুন, নাকি অন্য কোনো রহস্য আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার