বিক্রমপুরের সেরা প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ইদ্রাকপুর কেল্লা
মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের সেরা প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ও স্থাপত্যকর্ম ষোড়শ শতকের ইদ্রাকপুর কেল্লা।
মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার সুবেদার মীরজুমলা আনুমানিক ১৬৬০ সালে এটি নির্মাণ করেন। মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবল থেকে মুঘল আমলের ঢাকাকে সুরক্ষিত রাখতে ইছামতী নদীর তীরে গড়ে তোলা হয় এই কেল্লা।
প্রায় ৩৬০ বছরের বেশি পুরনো স্থাপনাটি মূলত একটি জলদুর্গ। ২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘মুন্সীগঞ্জের ইতিহাস’ গ্রন্থের তথ্যানুযায়ী, বারোভূঁইয়াদের দমন ও জলদস্যুদের কবল থেকে ঢাকাকে রক্ষার জন্য তৈরি হয় ইদ্রাকপুর দুর্গ। ইটের এই স্থাপনা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ইদ্রাকপুর নামে একটি এলাকা আছে।
ইদ্রাকপুর দুর্গটি আয়তকার। এটি উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রসারিত। এর দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ মিটার ও প্রস্থ ৫৯ দশমিক ৬০ মিটার। দুর্গের পশ্চিমাংশের চার কোণে ছোট ড্রাম আকৃতির চারটি বুরুজ রয়েছে। দুর্গে বিশাল উঁচু গোলাকার দেয়ালগুলো ড্রাম হিসেবে পরিচিত। দেয়ালের গায়ে গোলা ছোড়ার উপযোগী কৌণিক ফোঁকর আছে। ড্রামের পাদদেশে ভূগর্ভস্থ একটি কুঠুরি ও কুঠুরিতে অবতরণের জন্য নির্মিত সিঁড়ি দেখা যায়। জনশ্রুতি আছে, এটি ছিল গোপন সুড়ঙ্গপথের অংশ। এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ একটি গোপন কক্ষ তথা নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যাওয়া যেতো। এতে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রাখা হতো।