ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

পরিচ্ছন্ন শহর গড়ি, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করি

ওয়ারিশা মেহেবুবা
প্রকাশিত: ১১:২৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিচ্ছন্ন শহর গড়ি, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করি
আবর্জনা যেখানে-সেখানে নয়, নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ি, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করি।

বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকা থেকে ঢাকাকে বের করে আনতে হলে নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। গণ জমায়েতের আবর্জনা নিজেরা পরিষ্কার করা নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক গণ জমায়েত, সভা, মাহফিল, সামাজিক উৎসব কিংবা যেকোনো বড় সমাবেশ—সবকিছুই আমাদের সামাজিক জীবনের অংশ। কিন্তু এসব আয়োজন শেষ হওয়ার পর জায়গাজুড়ে পড়ে থাকা আবর্জনা আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বহন করে।

যদি প্রশ্ন করা হয়- শিক্ষিত না অশিক্ষিত? শহরকে নোংরা করে কারা? উত্তরটি নিজের কাছেই আছে! রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলে দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু সেই আবর্জনা পরিষ্কার করতে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেন সাফাইকর্মীরা।

Advertisement

যিনি নিজের দায়িত্ব ভুলে রাস্তায় ময়লা ফেলেন, তিনি যতই শিক্ষিত হোন না কেন, নাগরিক সচেতনতার পরীক্ষায় ফেল করেন। আর যিনি শহরকে পরিষ্কার রাখতে ঘাম ঝরান, তিনি সমাজের প্রকৃত দায়িত্বশীল মানুষ।

গলি থেকে রাজপথ রাজধানীর সর্বত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে থাকে মানুষ। নিজের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা তো নিজের দায়িত্ব। দোকানিরও তো উচিত ময়লা রাখার ঝুড়ি রাখা। প্রতিদিন রাতে প্রতি অলিগলি ঝাড়ু দেয়া হয়। সন্ধ্যা না গড়াতে ফের রাস্তা ময়লা হয়। গলি থেকে রাজপথ রাজধানীর সর্বত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে থাকে মানুষ।

যেখানে-সেখানে ময়লা নয়, দেশটা পরিচ্ছন্ন রাখুন হয়!" পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র  একটি শব্দই নয়, এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে রক্ষা করার ...

আপনি কি কখনো ভাবেন- আপনার সুবিধা কি কারণে অন্য কারও দায়িত্ব হয়ে উঠতে পারে।

চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল কিংবা যেকোনো ময়লা রাস্তায় ফেলে দেওয়া আমাদের কাছে হয়তো এক সেকেন্ডের অসচেতনতা, কিন্তু তা অন্য একজনের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১০ জন ময়লা পরিষ্কার করার চেয়ে একজন ময়লা না ফেলা অনেক বেশি কার্যকর। 
পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের কাজ নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।
ময়লা ডাস্টবিনে ফেলুন, শহরকে সুন্দর রাখুন। শিক্ষার আসল পরিচয় ডিগ্রিতে নয়, আচরণে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানুষের স্বভাবজাত প্রেরণা। তাই স্বভাব যদি বিকৃত না হয় তাহলে মানুষ নিজেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে এবং চারপাশের পরিবেশ ও লোকজনকেও পরিচ্ছন্ন দেখতে ভালবাসে। ইসলামী শরীয়তে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাতে পরিচ্ছন্নতার প্রতি অশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জীবনের অন্য বহু প্রসঙ্গের মতো পরিচ্ছন্নতার ধারণাও ইসলামে অনেক ব্যাপক ও গভীর।

পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে গেলে মনেই হবে না যে ময়লা বলতে কিছু আছে। তারা নিজেদের পাশাপাশি নিজের দেশকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। যার যেভাবে ইচ্ছা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছে। দোকান থেকে খাবার কিনে সেটি খেয়ে তার প্যাকেট রাস্তায়ই ফেলা হচ্ছে। রাস্তার পাশে বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে খাবার খেয়ে তার উচ্ছিষ্ট অংশ রাস্তায় ফেলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে যারা ঘুরতে বিদেশে যায় তাদের অনেককে দেখা যায় ময়লা ফেলার জায়গা না পেয়ে পকেটেও রাখে। অথচ নিজের দেশে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছে। 

বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের  নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর পূর্ব আওতাধীন খিলগাঁও মডেল কলেজ ছাত্রদল।

নিজেরা ফেলা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করা শুধু ভদ্রতা নয়, এটি নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব। নিজেদের ফেলা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করার উপকারিতা :
- পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় থাকে
- জায়গা পরিষ্কার থাকলে বাতাস, মাটি ও আশপাশের পরিবেশ সুস্থ থাকে।
- রোগ-ব্যাধি কমে যায়
- ময়লা পরিষ্কার থাকলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমে।
- সামাজিক শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে
- মানুষ দেখে শেখে। একজন পরিষ্কার করলে অন্যরাও সচেতন হয়।
- পরবর্তী ব্যবহারকারীদের জন্য জায়গা সুন্দর থাকে।
- একই জায়গা আবার অন্য কেউ ব্যবহার করবে—তাদের কষ্ট কমে।
- শিশু ও তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।
- ছোটরা বড়দের কাজ দেখে শিখে দায়িত্ববান হতে পারে।
- পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর চাপ কমে।

ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে, তবুও কেন ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে?,  পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ডাস্টবিন ব্যবহার করুন, সচেতন হোন। | ঢাকা উত্তর সিটি  কর্পোরেশন | Facebook

মনে রাখতে সব দায়িত্ব তাদের একার নয়; আমাদেরও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
- দেশ ও জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
- পরিচ্ছন্নতা সভ্যতার পরিচয় বহন করে।
- ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ হয়।
- ইসলামসহ সব ধর্মই পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিয়েছে।

একথা সবাই জানেন- গণ জমায়েতের পর আবর্জনা ফেলে রাখলে যে ক্ষতি হয়:
- পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়।
- প্লাস্টিক ও উচ্ছিষ্ট মাটি ও পানি দূষিত করে।
- মশা-মাছি ও জীবাণু জন্ম নেয়।
- যা মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে।
- দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়।
- স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
- নাগরিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়
- অব্যবস্থাপনা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
- শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়
- একটি সুন্দর জায়গা মুহূর্তেই নোংরা হয়ে যায়।
- মানসিক অসচেতনতা তৈরি হয়
- মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়ে ময়লা ফেলে রাখায়।
- আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে

  • যেখানে আমরা জমায়েত করি, সেখানেই আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়—পরিচ্ছন্ন করে যাওয়াতেই দায়িত্ব পূর্ণতা পায়। আজ আমরা যদি নিজের ফেলা ময়লা নিজে পরিষ্কার করি, আগামী প্রজন্ম পাবে একটি সুন্দর, সুস্থ ও সভ্য বাংলাদেশ।

১৯ সেপ্টেম্বর ছিলো বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস। আসুন, আমরা নিজেরা সচেতন হই। সুস্থ জীবন আর সুন্দর পৃথিবীর জন্য নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখা আমাদের সবার কর্তব্য। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করি, দায়িত্বশীল নাগরিক হই।

আবর্জনা যেখানে-সেখানে নয়, নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন।
পরিচ্ছন্ন শহর গড়ি, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করি।

আপনার ছোট্ট সচেতনতাই পারে—
• শহরকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে
• পরিবেশ দূষণ কমাতে
• দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির বিস্তার রোধ করতে
• ডেঙ্গু, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে
• আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর নগরী উপহার দিতে
মনে রাখুন, আজকের একটি সঠিক অভ্যাসই আগামী দিনের নিরাপদ পরিবেশ।
আসুন সবাই মিলে শপথ করি —“যেখানে সেখানে ময়লা নয়,
ডাস্টবিন ব্যবহারে হোক পরিচ্ছন্নতার পরিচয়।”


 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!