দাঁতে ক্যাপ পরানো কখন জরুরি
দাঁতের সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। শক্ত কিছু চিবোলে ব্যথা শুরু হয়। অনেক সময় হাড়ে কামড় দিলে দাঁত ভেঙে যায়। ডেন্টাল ক্রাউন বা ক্যাপ হলো একটি দাঁতের আকৃতির ক্যাপ বা টুপি। যা ক্ষয়প্রাপ্ত, ভাঙা, দুর্বল বা জীর্ণ দাঁতকে পুনরুদ্ধার করে। ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট ও রুট ক্যানেল চিকিৎসা করা দাঁত ঢেকে রাখার জন্য ডেন্টিস্টরা ক্রাউন ব্যবহার করেন।
ক্রাউন কত ধরনের, কোনটি করবেন?
দাঁতের ক্রাউন (ক্যাপ) অনেক ধরনের আছে। সাধারণত আমরা সচরাচর তিন ধরনের ক্রাউন ব্যবহার করে থাকি। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পোরসেলিন ক্রাউন। তুলনামূলক অল্প খরচে ন্যাচারাল দাঁতের মতো হওয়ায় এটার প্রতি রোগীর আগ্রহ বেশি থাকে। সব খরচে মেটালের ক্রাউন করাতে পারেন অধিক মজবুতের জন্য। সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও নিখুঁত ন্যাচারাল কাজের জন্য জিরকোনিয়া ক্রাউনের বিকল্প নেই। জিরকোনিয়া ক্রাউন ব্যবহার করতে আপনার দাঁতের এনামেল কম কেটে লাগানো হয় বলে দাঁতও থাকে শক্তিশালী। আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা ও অন্যান্য মৌখিক স্বাস্থ্যের চাহিদার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন ক্রাউনটি করবেন। তবে ডেন্টিস্ট আপনার দাঁতের উপর নির্ভর করে যে ক্রাউনটি করাতে বলেন সেটি করাই ভালো।
.png)
ক্রাউন ও ক্যাপের পার্থক্য, সুবিধা
ডেন্টাল ক্রাউন ও ক্যাপের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ডেন্টাল ক্রাউনকে কেউ কেউ ক্যাপ বলে। যেহেতু দুটির কাজই ঢেকে রাখা তাই ক্রাউনই ক্যাপ আবার ক্যাপই ক্রাউন।
দাঁতের ক্রাউনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এটি দাঁতের জীবনকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। এছাড়া আপনার খাদ্যাভাসে আনতে পারে আমূল পরিবর্তন।
রুট ক্যানেল চিকিৎসা করা দাঁতে ক্রাউন কেন জরুরি?
যে দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা শেষে ক্রাউন (ক্যাপ) বসিয়ে নিলে অধিক মজবুত হবে। অন্যথায় যে কোনো আঘাত লাগলে চিকিৎসা করা দাঁত ভেঙে যেতে পারে। মূলত রুট ক্যানেল চিকিৎসায় দাঁতের ভেতরের সংক্রমিত মজ্জা বা পাল্পকে বের করে আনা হয়। এই পাল্প যখন সুস্থ থাকে তখন তা দাঁতের ডেন্টিনকে পানি ও নিউট্রিশন সাপ্লাই দেয়। যখন থেকে দাঁতের পাল্প নষ্ট হয় তখন থেকে ডেন্টিন পানির অভাবে খুবই ধীরে ধীরে শুকনো ও ভঙ্গুর হতে থাকে।রুট ক্যানেল চিকিৎসা দাঁতের ইনফেকশন ও ব্যথা বন্ধ করলেও এই পানি ও নিউট্রিশন সাপ্লাই আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম নয়।
অর্থাৎ ডেন্টিন ভঙ্গুর হওয়ার পথেই থাকে। এই ডেন্টিনকে টিকিয়ে রাখতে ক্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসা শেষে ক্রাউন বসানো জরুরি। মেটাল, পোরসেলিন ও জিরকোনিয়াসহ বিভিন্ন উপকরণ থেকে তৈরি করা কৃত্রিম দাঁত সঠিক যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করলে ক্রাউন বা ক্যাপগুলো পাঁচ থেকে ২০ বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়।