মানসিক রোগের সমাজিক প্রেক্ষাপট
আজকের এ আধুনিক যুগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের সমপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা সর্বদাই সচেষ্ট। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও এ দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই। কিন্তু প্রষুক্তি নির্ভর এ ষুগেও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি আমাদের সমাজে আজও অবহেলিত। আর এর কারণ হচ্ছে সামাজিক কুসংস্কার, লোকলজ্জা ও মানসিক রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা।
মানসিক রোগ সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে; যেমন চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয় না, মানসিক রোগের ডাক্তার সব রোগীকে মানসিক রোগী বানিয়ে দেন, মানসিক রোগের চিকিৎসকরা রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন, মানসিক রোগের ওষুধের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, মানসিক রোগ ভালো হয়ে গেলে আর ওষুধ খাওয়ার দরকার নাই, শুধু সাইকোথেরাপি করে মানসিক রোগ ভালো হয়, মানসিক রোগের চিকিৎসকরাও একসময় রোগী হয়ে যান, বিয়ে দিলে মানসিক রোগ ভালো হয় ইত্যাদি।
আবার আমাদের অনেকেরই ধারণা হলো মানসিক রোগ মানে পাগল বা উল্টাপাল্টা আচরণ করা। কিন্তু মূলতঃ মোট মানসিক রোগীর মাত্র এক ভাগের মধ্যে এরকম উল্টা পাল্টা আচরণ দেখা যায়। আসলে মানসিক রোগের অধিকাংশই আবেগজনিত কিংবা উদ্বেগজনিত।
- প্রকৃতপক্ষে অন্যান্য শারীরিক রোগের মতোই মানসিক রোগেরও বিভিন্ন কারণ রয়েছে যার মধ্যে বংশগত, পরিবেশগত, সামাজিক, জৈবিক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মানুষের শরীরর কিছু রাসায়নক পদার্থের ঘাটতিও মানসিক রোগ সৃষ্টিতে দায়ী। আসলে প্রতিটি মানসিক রোগেরই কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ আছে যার প্রতিটিরই আলাদা বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা আছে যা সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য।
যদি রোগী ঠিকমতো ওষুধ খান, নির্দেশনা মেনে চলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তবে অধিকাংশ মানসিক রোগীই পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। আবার মানসিক রোগের একাংশের জন্য প্রয়োজন হয় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা। সর্বোপরি চিকিৎসার মাধ্যমে একজন মানসিক রোগী অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো মর্যাদার সাথে স্বাভবিক জীবন যাপন করতে পারেন।
কিন্তু এ স্বাভবিক জীবন পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় মানসিক রোগ ও তার চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষের ভুল ধারনা, কুসংস্কার আর সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। যার প্রভাবে রোগীদের আজও তাবিজ. পানি পড়া, তেল পড়া জাতীয় অপচিকিৎসার দিকে ঠেলে দেয়া হয়।
শিক্ষা, চাকুরী, পারিবারিক কিংবা সামাজিকভাবে তাদের ভ্ন্নি চোখে দেখা হয়।মানসিক রোগ বলে তাদের পিছনে সময় ও অর্থ ব্যয় করার প্রতি অনীহা প্রদর্শন করা হয়। আর যদিও বা কেউ কেউ মানসিক রোগকে গুরুত্ব দিতে চান, তারপরও তারা নানা সামাজিক কারণে কিংবা লোকলজ্জার ভয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে অনিচ্ছুক থাকেন।
ফলে এসব রোগীরা মানসিক সুস্থতার পরিবর্তে অন্ধকারেই থেকে যায় দিনের পর দিন। কালো ছায়ায় নিমজ্জিত হয় তাদের জীবন। কাজেই অপচিকিৎসার কবল থেকে মুক্ত করে একজন মানসিক রোগীকে অন্যান্য রোগীদের মতো বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে এসে তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার বিকল্প আর কিছুই নেই।
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি অন্যান্য সকল চিকিৎসকদেরকেও মানসিক রোগীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে হবে। যতদ্রুত সম্ভব সব ভ্রান্ত ধারণা দূরে ঠেলে, সকল কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেঙ্গে, অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে এসে মানসিক রোগীদের কাছে বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক চিকিৎসার কিরণ ছড়িয়ে দিতে হবে।
অধ্যাপক ডাঃ সুস্মিতা রায়,
মানসিক স্নায়ু ও মাদকাসক্তি রোগ বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক, মানসিক রোগ বিভাগ,
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেট,
সমাজ কল্যাণ সস্পাদক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট।
কুইন্স হসপিটাল, সিলেট
সুবিদ বাজার , সিলেট
সিরিয়ালের জন্য: 01730-700898, 01318-210277, 09601-110000
ট্রাস্ট মেডিকেল সার্ভিসেস
১৬, মধুশহীদ, মেডিকেল রোড, সিলেট
চেম্বার রুম: ৪১ (৪র্থ তলা)
সিরিয়ালের জন্য: 01754692536, 01791268232(