ব্যায়াম কি সত্যিই শরীরের শক্তি বাড়ায়
সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ বা অলসভাব থাকলে ব্যায়াম করার কথা অনেকেরই মনে হয় না। বরং মনে হতে পারে, শরীর যখন দুর্বল লাগছে, তখন ব্যায়াম করলে ক্লান্তি আরও বাড়বে।
তবে গবেষণা বলছে, নিয়মিত ও পরিমিত শারীরিক কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তি কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ব্যায়ামের সময় শরীরে রক্তসঞ্চালন ও অক্সিজেন পরিবহন বাড়ে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের ফলে কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস ও পেশির কার্যক্ষমতা উন্নত হয়। এর ফলে একই ধরনের দৈনন্দিন কাজ করতে শরীর তুলনামূলকভাবে কম পরিশ্রম অনুভব করতে পারে।

পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করা এবং মানসিক চাপ ও উদ্বেগের উপসর্গ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিষয় পরোক্ষভাবে দিনের বেলায় শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ক্লান্তি থাকলেই কঠিন ব্যায়াম করতে হবে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘ সময়ের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম, বিশেষ করে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও বিশ্রাম ছাড়া করলে উল্টো fatigue বা অবসাদ বাড়তে পারে।
তাই শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় কেউ শুরু করতে পারেন স্বল্প সময়ের হাঁটা, হালকা mobility exercise বা কম থেকে মাঝারি মাত্রার aerobic activity দিয়ে। সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে সময় ও intensity বাড়ানোই নিরাপদ পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে শুধু ব্যায়ামকে সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণেও persistent fatigue হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, ব্যায়াম কেবল ক্যালরি পোড়ানোর মাধ্যম নয়। সঠিক মাত্রায় এবং নিয়ম মেনে করা শারীরিক কার্যক্রম শরীরের কর্মক্ষমতা, ঘুম ও মানসিক সুস্থতা উন্নত করার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে শক্তি অনুভব করতে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যায়ামের সুফল পেতে হলে এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পুষ্টি, পানি, ঘুম ও recovery-ও নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক : রাইসা মেহজাবীন, ফিটনেস পুষ্টিবিদ
পিজিটি (Nutrition and Fitness Training), ইন্সপিরন ফিটনেস এন্ড ডায়েট কনসালটেন্সি সেন্টার
স্পেশালাইজড ইন ফিটনেস নিউট্রিশন ট্রেনিং, নিউট্রিশন সলিউশনস
ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও ফিটনেস কোচ, ইন্সপিরন ফিটনেস এন্ড ডায়েট কনসালটেন্সি সেন্টার, ধানমন্ডি ব্রাঞ্চ
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), নিউট্রিশন ফর চেঞ্জ