রোববার (২৯ জানুয়ারি) এই চিপ স্থাপনের কাজটি সর্ম্পূন্ন হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রাথমিক ফলাফলে নিজেদের সফল দাবি করে নিউরালিংক জানায়, যার মাথায় চিপটি বসানো হয়েছে তিনি সুস্থ আছেন এবং চিপটি সঠিকভাবে কাজ করছে। এটি নিউরোটেকনোলজি প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বিশাল অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।
.png)
নিউরালিংকের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়ে তথ্যটি শেয়ার করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘রোববার এক ব্যক্তির মস্তিষ্কে নিউরালিংক বসানো হয়েছে এবং তিনি সুস্থ আছেন।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘প্রাথমিক ফলাফল খুবই ভালো এবং নিউরনের স্পাইকগুলো ভালোভাবে নজর রাখছে এই চিপ।’
মানুষের মস্তিষ্ক যে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে সারা দেহে তথ্য আদানপ্রদান করে সেই প্রক্রিয়াকে স্পাইক বলা হয়।
গত বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তাদের মানুষের মস্তিষ্কে মাইক্রোচিপ স্থাপন করে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। এরপর এবারই প্রথম মানুষের মস্তিষ্কে মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে। কম্পানিটির লক্ষ্য, মানুষের মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং জটিল স্নায়বিক সমস্যার মোকাবেলা করতে সাহায্য করা।
মস্তিষ্কে মাইক্রোচিপ স্থাপনের অনুমোদন পাওয়ার পর এটি ইলন মাস্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
২০১৬ সালে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক নিউরালিংক প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য মানুষের মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করে দৃষ্টিশক্তি, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা, বিষণ্ণতা, সিজোফ্রেনিয়া, স্থূলতা ও শরীরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা। নিউরালিংক ছয় বছরের একটি গবেষণা শুরু করার অনুমোদন পেয়েছে।
একটি রোবট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের একটি অংশে মানুষের চুলের থেকেও সূক্ষ্ম ৬৪টি নমনীয় সুতা (থ্রেড) প্রবেশ করাবে।
ওয়্যারলেস চার্জযোগ্য ব্যাটারি দ্বারা চালিত এই থ্রেডগুলো মস্তিষ্কের ইমপ্লান্টে পরীক্ষামূলক সংকেত রেকর্ড করতে এবং প্রেরণ করতে পারে। ইমপ্ল্যান্ট থেকে প্রাপ্ত সংকেতগুলো একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনে যায় এবং তা নির্ণয় করে একজন মানুষ কীভাবে চলাচল করে। অর্থাৎ, মানুষের মস্তিষ্কের এমন একটা অংশে এই চিপ বা ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) স্থাপন করা হবে যেটি মানুষের চলাফেরার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মাস্ক বলেছেন, নিউরালিংকের প্রথম চিপের নাম ‘টেলিপ্যাথি’ বলা হবে।
তিনি আরো বলেছেন, ‘টেলিপ্যাথি আপনার ফোন বা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ এবং শুধুমাত্র চিন্তার মাধ্যমে প্রায় যেকোনো ডিভাইস চালাতে সক্ষম হবে।’ অর্থাৎ, কোনো যন্ত্রের সহায়তা না নিয়ে কেবল মস্তিষ্কের চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার কারসর বা কিবোর্ড নিয়ন্ত্রণে সক্ষম করে তোলা। তিনি জানান, ‘প্রাথমিক ধাপে যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার অক্ষম তারা এই চিপটি পাবেন।’
‘মোটর নিউরন’ রোগে আক্রান্ত প্রয়াত ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর কথা উল্লেখ করে ইলন মাস্ক বলেন, ‘ভাবুন যদি স্টিফেন হকিং একজন স্পিড টাইপিস্টের চেয়ে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে, তাহলে আমাদের লক্ষ্য আরো দ্রুত করা।’
আরো কিছু প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কাজ করে আসছে। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ব্ল্যাকরক নিউরোটেক’ ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করছে। নিউরালিংকের সহ-প্রতিষ্ঠাতার কোম্পানি ‘প্রিসিশন নিউরোসায়েন্স’ পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করার জন্য কাজ করছে। ‘ক্রেনিয়াল মাইক্রো-স্লিট’ নামে একটি সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কের পৃষ্ঠে পাতলা টেপের ন্যায় চিপ স্থাপন করে তারা।