মঙ্গল অভিযানের স্বপ্নে ৩০ কিশোরী
মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস ও প্রযুক্তি গবেষণায় কিশোরীদের আগ্রহী করে তুলতে ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫–বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ শিক্ষামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ৩০ জন কিশোরী মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনার অনুকরণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়। তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের উদ্যোগে এবং আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (কাসা) সহযোগিতায় কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়। দলগুলো রকেট ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা, মঙ্গলে অবতরণযান, অনুসন্ধানী রোবট, মঙ্গল গ্রহে আবাসন এবং বিজ্ঞান ও জীবনধারণব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং অভিযান অনুকরণের মাধ্যমে কিশোরীরা মহাকাশ অনুসন্ধানের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে পরিকল্পনা তৈরি, জটিল সমস্যার সমাধান এবং দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করে তারা।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই একজন বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী কিংবা উদ্ভাবক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সঠিক পরিবেশ, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এবং স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’-এর মাধ্যমে আমরা ৩০ জন কিশোরীকে শুধু মহাকাশ সম্পর্কে শেখাতে চাইনি, তাদের আত্মবিশ্বাসী হতে, বৈজ্ঞানিকভাবে চিন্তা করতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে চেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, এই কিশোরীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করা এবং মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, প্রকৌশল ও গবেষণায় তাদের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করা। আমরা চাই, আজ যারা মঙ্গল অভিযানের অনুকরণে অংশ নিচ্ছে, আগামী দিনে তাদের মধ্য থেকেই কেউ মহাকাশবিজ্ঞানী, রোবোটিকস প্রকৌশলী কিংবা আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী ৩০ কিশোরীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস, রকেট প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প এবং মঙ্গল অনুসন্ধানী রোবট ও আবাসন মডেল তৈরির সুযোগ রাখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে যুক্ত করে গড়ে তোলা হবে পরামর্শক নেটওয়ার্ক। ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গবেষণায় আগ্রহী দক্ষ এবং আত্মবিশ্বাসী নারী প্রজন্ম গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এ উদ্যোগ।