ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ তথ্য প্রযুক্তি ]

সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটিতে বন্ধ ইউরোপের বহু সরকারি ওয়েবসাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:৪৪, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটিতে বন্ধ ইউরোপের বহু সরকারি ওয়েবসাইট
ছবি: সংগৃহীত

বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বহু সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে সরকারি সেবা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) এ নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ওয়েবসাইট সুরক্ষিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পিএইচপির উন্নয়নকারীরা দুটি গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করে নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশের ঘোষণা দেন। পরে বুধবারই ত্রুটি সংশোধনের নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ওয়েবসাইটের তথ্য চুরি, অননুমোদিত পরিবর্তন কিংবা সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে এ ধরনের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টার খবরও পাওয়া গেছে।

নেদারল্যান্ডসে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। দেশটির সরকারি পোর্টাল Overheid.nl, ডিজিটাল সরকারি সেবা এবং কয়েকটি হাসপাতালের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ফিনল্যান্ডে সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা পরিচালনাকারী সংস্থা ভালটোরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি সরকারি অনলাইন পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। ডেনমার্কেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগব্যবস্থাসহ কয়েকটি ডিজিটাল সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা হালনাগাদের অপেক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে।

পিএইচপি ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টার মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের বহু ওয়েবসাইট এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ওয়েব প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউথ্রিটেকসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের সার্ভার-সাইড প্রযুক্তি শনাক্ত করা যায়, তার প্রায় ৭৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়।

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ডেন ক্রেচ জানিয়েছেন, এ ত্রুটি ঘিরে প্রাথমিক পর্যায়ের হামলার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এ ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পিএইচপি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি সংশোধন সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট ইন্টারনেট থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট প্রতিষ্ঠান ও সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতাসম্পন্ন ওয়েবসাইট পরিচালকদের জন্য ঝুঁকি বেশি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরা সার্ভার পরিচালনা করেন না এবং হোস্টিং সেবাদাতার ওপর নির্ভরশীল থাকেন। ফলে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা ও প্রয়োজনীয় হালনাগাদ সম্পন্ন করতে তাদের বেশি সময় লাগতে পারে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সাইবার হামলার বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেটে একই ধরনের দুর্বল সার্ভার খুঁজে বের করে একযোগে আক্রমণ চালানো সম্ভব হওয়ায় দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকে জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

তবে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়া মানেই সব পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইট আক্রান্ত হয়েছে, এমন নয়। ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্করণ শনাক্ত করা, নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ এবং সার্ভারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাই এখন প্রধান করণীয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!