ইউরোপজুড়ে গুগল ক্লাউডে বিভ্রাট, ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুগল ক্লাউডের একাধিক সেবায় বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় অনলাইন ব্যাংকিং, কার্ডে লেনদেন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত গুগলের তথ্যকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিলে এর প্রভাব পড়ে রেভল্যুটসহ একাধিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল ক্লাউডের ‘ইউরোপ-ওয়েস্ট২’ অঞ্চলের তথ্যকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। গুগলের সেবার অবস্থা পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত ওয়েবপৃষ্ঠায় একাধিক সেবায় ত্রুটির কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করছেন। তবে বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি গুগল।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংক রেভল্যুট। ব্যাংকটির কার্ডে লেনদেন এবং এটিএম থেকে নগদ অর্থ তোলাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় রেভল্যুট জানিয়েছে, একাধিক সেবায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে গ্রাহকদের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া এইচএসবিসি, লয়েডস ব্যাংক ও পার্সেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডির মতো প্রতিষ্ঠানের সেবায়ও বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। জার্মানির আইএনজি ব্যাংক জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যার কারণে গ্রাহকেরা অনলাইন ব্যাংকিং ও মুঠোফোনের অ্যাপে প্রবেশ করতে সমস্যায় পড়ছেন। যুক্তরাজ্যের আরও কয়েকটি আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও একই সময়ে সেবার সমস্যার কথা জানিয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কারণ একই কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে বিশ্বের ক্লাউড অবকাঠামো সেবার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে অল্প কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনার্জি রিসার্চ গ্রুপের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো বাজারে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অংশ ২৮ শতাংশ, মাইক্রোসফটের ২১ শতাংশ এবং গুগল ক্লাউডের ১৪ শতাংশ।
ক্লাউড সেবা ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের খরচ কমে এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু একই অবকাঠামোর ওপর বহু প্রতিষ্ঠানের নির্ভরতা বড় ঝুঁকিও তৈরি করে। কোনো একটি অঞ্চলে ত্রুটি দেখা দিলে একসঙ্গে ব্যাংকিং, ব্যবসা ও অনলাইন সেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প অবকাঠামো, একাধিক অঞ্চলে তথ্য সংরক্ষণ এবং জরুরি পুনরুদ্ধারব্যবস্থা শক্তিশালী করা ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।