নোয়াখালীতে মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতিতে সন্তোষ
নোয়াখালীতে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সেবার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. জিন্নাত রেহানা। জেলার বিভিন্ন সূচকে অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব আসিব আহসান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মতিউর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দিন।
প্রশিক্ষণে নোয়াখালীর নয়টি উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন সূচকে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপনা পর্যালোচনা শেষে ড. জিন্নাত রেহানা সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি জেলার মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সেবার মান বজায় রাখা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন
প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কেন্দ্রটিতে প্রতি মাসে গড়ে চার শতাধিক স্বাভাবিক প্রসব বিনা মূল্যে করানো হয়।
কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. মুহাম্মদ জিহাদুল হকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে দেশসেরা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
পরিদর্শনকালে ড. জিন্নাত রেহানা কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান ও প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় কেন্দ্রের সেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে কেন্দ্রের দানবাক্সে নগদ অর্থ দেন মহাপরিচালক। ওই অর্থ দিয়ে কেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি আমলকীর চারা রোপণ করেন তিনি।
এ সময় নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন ড. জিন্নাত রেহানা।