ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

টানা ৭ ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের জীবন বাঁচালেন এক নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৫২, ১১ আগস্ট ২০২০
টানা ৭ ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের জীবন বাঁচালেন এক নারী
বৃষ্টিতে ম্যানহোলের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কান্তা

ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত ভারতের মুম্বাই। গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পানি সড়কে জমে ভোগান্তিতে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা। পানি জমে থাকা সড়কের একটি ম্যানহোল ঢাকনাবিহীন ছিল। সেখানে পড়ে প্রাণহানি বা ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কাও ছিল। তবে টানা সাত ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে ভয়াবহ দুর্ঘটনা রুখলেন এক নারী। পরে সিটি কর্পোরেশনের লোক এলেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

৫০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম কান্তা মুর্তি কল্যাণ। ৮ সন্তানের জননী কান্তা একজন ফুল বিক্রেতা। ফুল বিক্রি করে তিন সন্তানের লেখাপড়া ও সংসার চালাচ্ছেন তিনি। বাকি পাঁচ সন্তানকে বিয়ে দিয়েছেন। গত ৪ জুলাই পানির স্রোতে নিজের বাড়ি ও জমানো সবকিছু হারিয়েছেন কান্তা। তার স্বামী প্যারালাইজড। তাই সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম কান্তা।

ভারতীয় একটি সংবাদ সংস্থাকে কান্তা বলেন, ফুল বিক্রি করে আমি আমার তিন সন্তানের পড়ালেখা ও সংসারের খরচ বহন করছি। রেল দুর্ঘটনায় আমার স্বামী প্যারালাইজড হয়ে গৃহবন্দী হয়ে আছে।

Advertisement

এদিকে বৃষ্টির মধ্যে ম্যানহোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই নারীর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় কান্তা মুর্তি অনেক প্রশংসিত হয়েছেন। তবে ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা থাকার ফলে রোষানলে পড়তে হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলদের।

টানা সাত ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে লোকজন ও গাড়ি চালকদের দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন কান্তা। তিনি না থাকলে পানিতে ডুবে থাকা ওই ম্যানহোলের কারণে অনেকেই বিপদের সম্মুখিন হতে পারতো।

ওই সময় লোকজন যখন কান্তাকে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করেন তখন তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করেন তিনি। তখন তাকে সাধুবাদও জানানো হয়।

কান্তা মুর্তি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে যা স্বাভাবিক সেটাই চিন্তা করেই চেষ্টা করেছি। আমি এ কাজ না করলে লোকজনকে দুর্ঘটনায় পড়তে হতো। এমনকি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণহানির সম্ভাবনা ছিল।  

উলেখ্য, গত ৪ আগস্ট মহারাষ্ট্রে রাতভর বৃষ্টিপাত হয়। এতে মুম্বাই, থানে, পালঘর, রাইগাদ, রত্নাগিরিসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

সূত্র- এনডিটিভি

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএফ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!