ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

চীনা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৩, ২৮ অক্টোবর ২০২১
চীনা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

চীনের সম্প্রতি হাইপারসনিক ক্ষেপণান্ত্র পরিক্ষা খুবই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল মার্ক মিলি।  গত সপ্তাহে  সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণান্ত্র পরিক্ষার প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করে। যা মার্কিন সেনাবাহিনীকে হতবাক করে। যদিও বেইজিং ক্ষেপণাস্ত্র পরিক্ষাকে অস্বীকার করে জানান যে, এটি মহাকাশযান ছিল।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে পাঁচ থেকে নয় গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। এই ক্ষেপণান্ত্র এত দ্রুতগতির যে তা উড়ে এসে আঘাত হানার আগে চিহ্নিত করা বা মাঝপথে তাকে ধ্বংস করে দেয়া খুব কঠিন।

বুধবার ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা উল্লেখ করে ব্লুমবার্গের টিভি সাক্ষাতকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল বলেন, চীন যেভাবে তার ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করছে ও হাইপারসনিক ক্ষেপণান্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে, তা বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিস্ময় ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মকর্তারা যতটা ধারণা করতেন, তার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে চীন। আমি জানি না এটি একটি স্পুটনিক মুহূর্ত কিনা, তবে আমি মনে করি এটি তার খুবই নিকটবর্তী।

Advertisement

বিশ্লেষকরা বলেছেন, স্পুটনিক মোমেন্টের মতো চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণান্ত্র পরিক্ষা পরাশক্তিগুলোর মধ্যে একটি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে।

ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়াকে ‘স্পুটনিক মোমেন্ট’ বলা হয়। স্পুটনিক-১ বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ যা ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর ৪ তারিখে উৎক্ষেপণ করা হয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এটি উৎক্ষেপণ করে। স্পুটনিক ১-এর মহাকাশে প্রেরণের মাধ্যমে মহাকাশ যুগের সূচনা হয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, চীন এখন পযর্ন্ত দুইবার নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিক্ষা চালিয়েছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি হচ্ছে একটি রকেট এবং তার সাথে সংযুক্ত হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল বা ইঞ্জিনবিহীন উড়ন্ত যান। এটি মহাশূন্যের ভেতর দিয়ে উড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। তবে সেটি লক্ষ্যে আঘাত আনতে পারেনি। তবে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছে চীন। দেশটি দাবি করেছে, তারা মহাকাশে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য যান পাঠিয়েছে।

তবে চীন যদি প্রযুক্তি নিখুঁত করতে পারে তাহলে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পারমাণবিক ওয়্যারহেড দিয়ে ধ্বংস করতে পারবে। রেথিওন টেকনোলজিস করপোরেশনের সিইও গ্রেগরি হায়েস বলেছেন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবনে চীনের অন্তত বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের জেমস মার্টিন সেন্টারের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ জেফরি লুইস বলেন,যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আঘাত হানতে পারে এমন শ'খানেক পারমাণবিক আইসিবিএম চীনের হাতে এখনই আছে। যদিও এই গ্লাইডার একটি চমৎকার সংযোজন, কিন্তু এটা একটা পুরোনো জিনিস যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করার পন্থা হিসেবে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!