খবরে বলা হয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী সু চি ওয়াকিটকির অবৈধ আমদানি এবং রাখার অপরাধে সামরিক আদালতে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ ছিল। হঠাৎ কি কারণে স্থগিত করা হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারক কোনো ধরনের ব্যাখ্যা না দিয়ে আদালত এই রায় ঘোষণা ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন।
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোয় জান্তার একটি বিশেষ আদালতে সু চির বিচার হচ্ছে। এই আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া সু চির আইনজীবীদের গণমাধ্যমে কথা বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে ঠিক কী কারণে রায় ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না।
.png)
সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভিন্নমতাবলম্বীদের উস্কানি দেওয়া ও করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ ভঙ্গের দায়ে মামলায় সু চি চার বছর কারাদণ্ড হয়। চলতি মাসের শুরুতে ওই রায় দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপর সেই সাজা কমিয়ে দুই বছর করেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। তিনি বলেন, বাড়িতে থেকেই এই সাজা ভোগ করবেন তিনি।
এদিকে ওয়াকিটকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছরের সাজার মুখোমুখি হতে পারে নোবেল বিজয়ী সু চির। তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা রয়েছে। সবগুলোর বিচারকাজ চলছে। এসব রায় সু চির বিরুদ্ধে গেলে আজীবন বন্দি থাকতে হতে পারে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চি সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী। পরে তার বিরুদ্ধে বিগত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনে জান্তা। গ্রেফতার করা হয় তাকে ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। এছাড়া দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। জান্তার এসব পদক্ষেপে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে ১১ হাজার বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত করার পর রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গসহ সু চির বিরুদ্ধে আরো ৯টি মামলা করে জান্তা। সব কটিতে দোষী সাব্যস্ত হলে ১০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে তার।