তালেবানের অধীনে কাজ হারিয়েছেন ৫ লাখের বেশি আফগান
গত বছরের আগস্টে রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জানিয়েছে, তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ৫ লাখের বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছে বা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বুধবার সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএলও’র বরাতে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংকট আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। চাকরি হারিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় নারীরা। নারীদের কর্মস্থলে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে চাকরিচ্যুত হতে পারে ৭ থেকে ৯ লাখ নারী।
.png)
আরো পড়ুন: জ্বলন্ত বাসে জীবন্ত মানুষকে পুড়তে দেখল পথচারীরা
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসারে, দেশটিতে নারীদের চাকরি করার হার যদিও আগে থেকেই কম। আইএলও বলছে, এই হার গত বছরের তৃতীয়াংশে কমেছে ১৬ শতাংশ এবং যা চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে যা আরও ২১ থেকে ২৮ শতাংশ অবধি কমে যেতে পারে।
আফগানিস্তানে আইএলও’র সিনিয়র কর্মকর্তা রামিন বেহজাদ জানান, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই সঙ্কটাপন্ন, দেশটির স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত সহযোগিতা দরকার।
যদিও এখন মানবিক চাহিদা মেটানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে দেশটির মানুষ এবং সম্প্রদায়ের যথাযথ কর্মসংস্থান, জীবিকা ও মৌলিক পরিষেবার ওপর।
আরো পড়ুন: ইউক্রেনে ‘হামলা’ করতে পারেন পুতিন, ধারণা বাইডেনের
কৃষি কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, সরকারী চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কিংবা বিনা বেতনে তাদের কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় চাকরি হারিয়েছে নির্মাণ শ্রমিকরাও।
তালেবানের ক্ষমতা দখলের পরে, আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাবে শিক্ষক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন প্রদান করা যাচ্ছে না এই অজুহাতেও অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া হাজার হাজার আফগান নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে তালেবানরা।