ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৮, ৩১ জানুয়ারি ২০২২
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

১৬ মাস পূর্বে দুই দেশের মধ্যে স্থাপিত হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো জোরালো করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগ। এর মধ্যেই ইয়েমেন থেকে আমিরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

সোমবার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষটি জনমানবহীন এলাকায় পড়েছে। তবে আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে অথবা মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুবাই শহর লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,ওই হামলা প্রতিহত করার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমান ট্রাফিক স্বাভাবিক আছে। বিমানের সব ফ্লাইট চলছে।

Advertisement

আরো পড়ুন: প্রথমবারের মত আমিরাত সফরে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট

নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আমিরাতের ডি ফ্যাক্টো শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে হেরজগের আলোচনার মধ্যেই সোমবার হামলা চালানো হয়।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোববার রাতে আবু ধাবিতে অবস্থান করেছেন হেরজগ। হুথিদের হামলার পরেও তিনি আমিরাতে সফর চালিয়ে যাবেন।

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি আবু ধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হয়। এর এক সপ্তাহ পরেই আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ যা ইয়েমেনে ইরান সমন্বিত হুথিদের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে লড়াই করছে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ এই যুদ্ধকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আরো পড়ুন: ৬ মাস পর খুলছে আফগান বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধ হতে পারে নারী শিক্ষা

উল্লেখ্য, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আচমকা এবং এলোপাতাড়ি হামলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বোমা বোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইনে প্রায়ই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এই বিদ্রোহীগোষ্ঠী। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের শুরুর পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটের অবসান হওয়ার পরিবর্তে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইয়েমেনে কার্যত দুই শাসকগোষ্ঠী সক্রিয় আছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক সহযোগিতার ওপর ভর করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল এখনও মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা।

ইয়েমেনের এই সংঘাতকে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে সৌদি-ইরানের ‘ছায়াযুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হয়। টানা গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত চলার ফলে প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এবং এক সময়ের স্বচ্ছল এই দেশ। জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ খাদ্য ও ওষুধের অভাবে ভুগছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!