ক্রিস্টিনার ভাষার নাম ছিলো ইয়ামানা। ওই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনো পৃথিবীতে আছেন, তবে কালের বির্বতনে হারিয়ে ফেলেছেন তাদের নিজস্ব ভাষা। ক্রিস্টিনাই ছিলেন ইয়ামানা ভাষায় কথা বলতে পারা শেষ ব্যক্তি।
চিলির ভিলা উকিকা শহরে থাকতেন ক্রিস্টিনা। উলের মোজা বানিয়ে তা বিক্রি করে চলত তার সংসার।
.png)
বিশ্বে বিলুপ্তির পথে থাকা ইয়ামানি ভাষাটি টিকিয়ে রেখেছিলেন ক্রিস্টিনা ও তার বোন। ২০০৩ সালে বোন মারা যাওয়ার পর ক্রিস্টিনার নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথনই টিকিয়ে রেখেছিল ভাষাটিকে, এখন সেই ক্রিস্টিনাও আর নেই।
আরো পড়ুন>> বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে রাজপথের দখল নিল কানাডার পুলিশ
হর্ন অন্তরীপ এলাকায় বসবাসরত ইয়াগান জনগোষ্ঠীর সর্বসাকুল্যে ১২শ’র মতো এখন সদস্য টিকে আছে। তাদের মধ্যেই প্রচলন ছিল ইয়ামানা ভাষার। তবে শব্দের মূল উৎস বোঝাটা কঠিন বলে ক্রিস্টিনাদের পরের প্রজন্ম ইয়ামানি ভাষায় কথা বলা ছেড়ে দেয়।
ক্রিস্টিনার নাতনি লিদিয়া গঞ্জালেস বলেন,“তিনি শুধু নিজেই মারা যাননি, তার সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির একটি স্মৃতিও হারিয়ে গেল।”
ইয়ামানা ভাষায় কথা বলতে পারা ক্রিস্টিনা ভাষাটি রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। একটি অভিধান তৈরিতে হাত দিয়েছিলেন তিনি, সেটি স্পেনিশ ভাষায় অনুবাদও করছিলেন।
আরো পড়ুন>> বরযাত্রী নিয়ে নদীতে ডুবল গাড়ি, নিহত ৯
চিলির নতুন সংবিধান প্রণয়নে যুক্ত থাকা লিদিয়া আশা করছেন, এই অভিধানের মাধ্যমে ইয়ামানা ভাষাটি টিকে থাকার পথ তৈরি হলেও হতে পারে।
বৈচিত্র্যময় বিশ্বের বুক থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে নানা ভাষা। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো বলছে, প্রতি দুই সপ্তাহে বিশ্বের বুক থেকে বিলীন হচ্ছে একটি করে ভাষা। তার সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অংশ।
বিলুপ্তির হাত থেকে ভাষাগুলোকে রক্ষাও বিশ্বব্যাপী একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন হয়, যে দিনটি বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের রক্তাক্ত ইতিহাস বহন করছে।
সূত্র: সিএনএন