বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্সটিটিউটে চাহিদা সংকট এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার আগ্রহ কম থাকার কারণকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অজ্ঞতাই একমাত্র কারণ বলে মনে করছেন বিভাগীয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
তারা বলছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে মাত্র তিন বছরের পথচলার পরিধি হওয়ায় নেই সেশনজট। তবে এই বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা থাকার জন্য তুলনামূলক চাহিদা একটু কম।
.png)
আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তারা কমবেশি জানি যে এই ইনস্টিটিউটের অধীনে একাধিক বিভাগ ও ভাষা শিক্ষা থাকতে পারে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের অধীনে একটিমাত্র ভাষা চলমান। যার নাম ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ। এই সাবজেক্ট আপনাকে মূলত ইংরেজি ভাষা বিষয়ে দক্ষ বানাবে। এই বিষয়ে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কখনোই কম না। এছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা বড় বড় কোম্পানিতে ইংরেজি ভাষার ট্রেইনার হিসেবে বেশ চাহিদা থাকবে এবং লিঙ্গুইস্ট এর অপশনতো আছেই। তাছাড়া ইংরেজি সাহিত্য পড়েও যেমন ব্যাংকে চাকরি করা যায় এই সাবজেক্টে পড়ে তার কম হবে না। মূল বিষয় এই সাবজেক্টের সিলেবাসটা অত্যন্ত সুন্দর ও গোছালো। লিঙ্গুইস্টিকস এর বিষদ জ্ঞান নিয়ে বহু রিসার্চই করা যেতে পারে। এই সাবজেক্ট প্রধানত শিক্ষক তৈরি করে। ভাষাবিদও হতে পারেন চাইলে।
তারা আরো বলেন, এই সাবজেক্টের অন্যতম সুবিধা হলো ঘরোয়া পরিবেশে শেখা। আর মোটামুটি একটা বেসিক জানাশোনা থাকলে অনায়াসে আপনি রেগুলার ক্লাস করে সিলেবাস শেষ করতে পারবেন। আবার চাইলে বিষদ আকারে রিসার্চ করে জ্ঞানের ভান্ডার পরিপূর্ণ করতে পারবেন। আর সাহিত্যের যে অংশগুলো আমরা পড়ি তাতে মোটামুটি সব ক্যাটাগরিই কভার হয়ে যায়। তবে আরো বেশি পড়া গেলে হয়তো অনেকের কাছে সাবজেক্ট আরও ইন্টারেস্টিং হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. প্রতীভা রাণী কর্মকার বলেন, এই সাবজেক্টটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একেবারেই নতুন। অভিভাবকরা অনেক সময় না বুঝে গুরুত্ব কম দেয়। আসলে ইংরেজি সাহিত্য ও ইংরেজি ভাষার মধ্যে নামের বা অর্থগত পার্থক্য থাকলেও কার্যত কোনো পার্থক্য নেই। শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের অনুপাত ও শিক্ষা সুলভ পরিবেশে আমরা অনেক ভালো আছি। আমাদের কিছু ত্রুটি ছিলো প্রশাসনের সহায়তায় তা সমাধান হয়েছে। তবে আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনও গ্র্যাজুয়েশন শেষ না করতে পারায় শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্রগুলো বা তাদের আউটপুটটা এখনও বুঝতে পারিনি। তবে চাকরির ক্ষেত্রে সব জায়গায়তেই এর গুরুত্ব অনেক।
আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক খন্দকার মোন্তাসির হাসান বলেন, আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পার্থক্য শুধু ইংরেজি সাহিত্য এবং ইংরেজি ভাষা। বাস্তবিক জীবনে এই বিষয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেকোনো জায়গায় ইংরেজি ভাষার গুরুত্বের কোন কমতি নেই সুতরাং আমাদের শিক্ষার্থীরা যে কোথাও কম সুযোগ পাবে এটা ভেবে থাকলে ভুল। এই সাবজেক্টটা সবার কাছে পরিচিত না অন্যান্য সাবজেক্ট এর মতো। যেই কারণে এটার গুরুত্ব বুঝতে পারে না। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা যখন বুঝতে পারে তখন একে ভালোবাসে। এখান থেকে আর যেতে চায় না। পূর্বে আমাদের কিছু সংকট ছিলো কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনা তা পরিপূর্ণ হয়েছে।