ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইউক্রেন সংকট: জ্বালানি তেলের দাম ৭ বছরে সর্বোচ্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২১, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ইউক্রেন সংকট: জ্বালানি তেলের দাম ৭ বছরে সর্বোচ্চ
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উঠে এসেছে ৭ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে। তবে বুধবার কিছুটা ইতিবাচক ভঙ্গিতে ছিল এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো।

মঙ্গলবার ফিউচার মার্কেটে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮ মার্কিন ডলার উঠেছে বলে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

 এদিকে এসব নিষেধাজ্ঞায় এরইমধ্যে অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়ে গেছে রাশিয়ায়। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

Advertisement

পূর্ব ইউক্রেনের দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়ে সোমবার সেনা পাঠিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই স্বীকৃতি দিয়ে মস্কো আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করার পাশাপাশি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি বিশ্ব নেতাদের। প্রতিবাদে শুরু হয়েছে রাশিয়ার উপর একের পর এক বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

চলমান উত্তেজনায় বুধবার সাত বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসে বিশ্ব জ্বালানি তেলের দাম। সকাল পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ৯৭ ডলার ১৪ সেন্টে। আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ব্যারেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ ডলার ৩৫ সেন্ট।

এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরই দর পতন হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটে। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। বুধবার উর্ধ্বমুখী ছিল চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার।

আরো পড়ুন: ইউক্রেনের রাজধানীতে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ফ্রান্সিস লুন জানান, ইউরোপের এ সংকট এশিয়ার বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করবে না। তবে বিশ্বব্যাপী তেল গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে দেশে দেশে ভোক্তা ব্যয় এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।

ইউক্রেন ইস্যুতে প্রথম দফায় রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিইবি এবং মিলিটারি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বন্ড ইস্যু না করা, কিছু ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সম্পত্তি জব্দের কথা জানিয়েছে জাপান। অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় আছে রুশ ব্যাংক, পরিবহন, জ্বালানি, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ। এছাড়াও একটি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প স্থগিত করেছে জার্মানি।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞায় চাপের মুখে পড়তে শুরু করেছে রাশিয়ার অর্থনীতি। ধারাবাহিক দরপতন চলছে দেশটির শেয়ারবাজারে। সবচেয়ে বেশি দর হারাচ্ছে জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার জিডিপি কমবে ১ ভাগ। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হলে এই হার ৫ ভাগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রফতানি করে রাশিয়া। একইসঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়াতেই উত্তোলন করা হয়। এমন নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে তেলের দাম কয়েকদিনের মধ্যেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কয়েকদিন ধরে ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তে যে উত্তেজনা চলছে তার শুরুটা বেশ আগে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর ইউক্রেনের জন্ম। রাশিয়া ইউক্রেনকে সব সময় পশ্চিমা বলয় থেকে মুক্ত রাখতে মরিয়া। প্রতিবেশী বেলারুশও মস্কোপন্থি। পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার আধিপত্য একচ্ছত্র।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: ইউক্রেন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!