নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান থেকে হামলাটি চালানো হয়েছিল।
রোববার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র এটিকে “ভয়াবহ হামলা” বলে অভিহিত করেছেন । তবে এ হামলায় মার্কিন কোনো সেনা আহত হয়নি । এমনকি মার্কিন সরকারি স্থাপনাগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
.png)
ইরাকের রাষ্ট্রীয় টিভি আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীকে জানিয়েছে, এরবিল ইরাকের বাইরে ১২ টি ক্ষেপণান্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে সেগুলো কোথায় আঘাত করেছে তা তাৎক্ষনিকভাবে পরিষ্কার নয়।
ইরবিলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কমপ্লেক্সে থাকা মার্কিন বাহিনী অতীতে রকেট এবং ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় ইরান সমর্থিত সমস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত কয়েক মাস ধরে হামলার ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। এর আগে ২০২০ সালে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া হয়। এটি মূলত ইরানের কমান্ডার সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই হামলা চালায় তেহরান।
আরো পড়ুন: কঙ্গোতে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে নিহত ৬০
উল্লেখ্য, সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলার কারণ হিসেবে সংখ্যালঘুদের রক্ষা এবং আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিল শহরে অবস্থানকারী মার্কিন নাগরিকদের রক্ষার যুক্তি দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরবিলে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের তৎপরতা গত এক দশকে অনেকটাই বেড়েছে। ইরাকে ২০০৩ সালের মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে বিদেশিদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বহুজাতিক তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইরবিলে কার্যক্রম চালু করে। চলতি গ্রীষ্মে ইরবিলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়। ইরাকের প্রয়াত স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে তাকে হঠাতে কুর্দি বাহিনীতে মার্কিন সেনারা যোগ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই ইরবিল শহরটিকে মার্কিনরা নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে তৈরি করতে থাকে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর মসুলের নিয়ন্ত্রণ ইতিমধ্যে আইএস জঙ্গিদের দখলে চলে গেছে। সেখানকার সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকজন দলে দলে ইরবিলে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মসুল থেকে ইরবিল সড়কপথে মাত্র এক ঘণ্টার পথ।