মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা - ইউএনএইচসিআর।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ সেনারা। প্রথম পর্যায়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোতে এ অভিযান সীমিত রাখা হয়েছিল। এ কারণে পূর্বাঞ্চলের অনেক শহর থেকে অনেকেই ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ ও তার আশপাশের শহরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলেও রুশ বাহিনীর গোলাগুলি ও বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর আতঙ্কে দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মলদোভায় আশ্রয় নিচ্ছেন বহু ইউক্রেনীয়।
.png)
ইউএনএইচসিআর জানায়, ৪০ লাখ শরণার্থীর জন্য তারা সহায়তার পরিকল্পনা করলেও ইউক্রেন ছাড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা।
আরো পড়ুন>> সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা ইরানি তরুণীর!
লিভভের কাছে ইয়াভোরিভ সামরিক ঘাঁটিতে রোববার রুশ হামলার পর পশ্চিম ইউক্রেনের কিছু বাসিন্দা সীমান্তে ঘরছাড়া মানুষের দলে যোগ দিয়েছেন।
খারকিভের ৪০ বছর বয়সী এক মা কয়েকদিন আগে ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়া তার ‘ধর্মমাতার’ সঙ্গে মিলিত হতে পোল্যান্ড রওনা হয়েছেন।
ইউক্রেন-পোল্যান্ডের ব্যস্ততম সীমান্ত ক্রসিংয়ের নিকটতম শহর প্রজেমিসলের ট্রেন স্টেশনে তিনি বলেন, লিভভে আক্রমণের আগ পর্যন্ত প্রত্যেকে মনে করেছিল পশ্চিম ইউক্রেন যথেষ্ট নিরাপদ।
“তারপর তারা (রুশ বাহিনী) কিরোভোহরাদে হামলা চালাল, লিভভেও হামলা করল। ছোট বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে বোমা হামলা এড়ানো খুবই কঠিন।”
আরো পড়ুন>> ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে ‘বরফের মহাদেশ’ অ্যান্টার্কটিকা, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা
তার স্বামী এখনও ইউক্রেনেই রয়ে গেছেন জানিয়ে ওই নারী বলেন, “আমরা কিরোভোহরাদের উদ্দেশে খারকিভ ছেড়েছি। আমরা এখানে থাকতে চাই। আমরা ভিনদেশে যেতে চাই না।”
ইউক্রেনের রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বিশাল সংখ্যক শরণার্থী ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্ত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া এবং মলদোভায় আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি বা ১৮ লাখ মানুষ কেবল পোল্যান্ডেই রয়েছে।
বুধবার ইউএনএইচসিআর বলেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শরণার্থী আরও পশ্চিমের দেশগুলোতে রওনা হয়েছেন। পশ্চিম ইউরোপে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
আরো পড়ুন>> বিয়ের পরেই জানতে পারেন স্ত্রীর ‘পুরুষাঙ্গ’ রয়েছে, আদালতের দ্বারস্থ স্বামী
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ অভিবাসন কর্মকর্তা ইলভা জোহানসন বলেছেন, “যদি আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সংহতি দেখাই, তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব।”
এর আগে ২০১৫-২০১৬ সালে সিরিয়ার যুদ্ধে ১ লাখ মানুষ ইউরোপে শরণার্থী হয়েছিলেন; সেসময় শরণার্থী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল বলেছিলেন, ‘আমরা এটি সামলাতে পারি’।
ইউক্রেন যুদ্ধে শরণার্থী সংকটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইইউর শীর্ষ কর্মকর্তা জোহানসনের বক্তব্য মেরেকেলের সেই ব্ক্তব্যেরই প্রতিরূপ।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট