রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি। এর আগে রাশিয়ার হাতে অবরুদ্ধ থাকার কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় এই বন্দরনগরীতে ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
বুধবার এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মারিউপোল শহরে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের ১ হাজার ২৬ জন সেনাসদস্য স্বেচ্ছায় তাদের অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করেছে।
.png)
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সেনারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বৃষ্টির মতো।
আরো পড়ুন: পাকিস্তানের সরকারি ছুটি কমালেন শাহবাজ
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দার মারিউপোল শহরটি দখল করা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি আজভ সাগরে ইউক্রেনের কৌশলগত বন্দর এবং ডনবাস অঞ্চলে রুশ-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর কাছেই অবস্থিত।
গত মার্চ মাসের শেষের দিকে মারিউপোলের শহর কাউন্সিল জানিয়েছিল, রুশ সামরিক অভিযানের কারণে ১ লাখ ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষ পালাতে সক্ষম হলেও আরো ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ শহরটিতে আটকা পড়েছেন।
এছাড়া এক মাসের বেশি সময় ধরে রুশ সেনাদের অনবরত হামলায় কৌশলগত এই শহরটি কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ফলে শহরে আটকে পড়া আতঙ্কিত বেসামরিক বাসিন্দাদের অনেকে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। একইসঙ্গে শহরে পানি, খাবার এবং ওষুধের মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেও সেসময় জানানো হয়েছিল।