যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবারের এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল দেশটির ডোলোরস শহরের প্রায় ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি প্রদেশে একটি হাসপাতাল ও একাধিক ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে রাজধানী ম্যানিলাতেও।
.png)
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি লাগানগিলাং শহরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাইকেল ব্রিলান্টেস বলেন, মাটি এমনভাবে কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল যেন আমি কোনো দোলনায় রয়েছি এবং হঠাৎ আলো নিভে গেলো। আমরা দৌড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে আসি। আমি চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম এবং আমার কিছু সঙ্গী কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।
তার কথায়, আমার দেখা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভেবেছিলাম, মাটি ফেটে দুই ভাগ হয়ে যাবে।
জানা গেছে, উত্তরের আবরা প্রদেশে ভূমিকম্পের ফলে ধসে পড়া হাসপাতাল থেকে সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন: গুজরাটে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃত বেড়ে ৩৮
২ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দার আবরা প্রদেশের গভর্নর জয় বার্নোস তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালের ছবি পোস্ট করেছেন।
লাগানগিলাং শহরের মেয়র রোভলিন ভিলামোর বলেন, আমরা এখনো আফটারশক অনুভব করছি। বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভূমিকম্পের ফলে প্রদেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আফটারশকের কারণে এখনো বাসিন্দারা ঘরে থাকতে পারছেন না। তারা খোলা স্থানে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পের পরে রাজধানী ম্যানিলাতেও মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ও ভূকম্পনগতভাবে সক্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ারে ফিলিপাইনের অবস্থান। রিং অফ ফায়ার মূলত একটি আগ্নেয়গিরি ও ফল্ট লাইনের ব্যান্ড, প্রশান্ত মহাসাগরের ধারে বৃত্তাকারে এর অবস্থান।