কাবুলে আল কায়দা প্রধানের বাড়িতে হামলার কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যে ঘরে আয়মান আল-জাওয়াহিরি ছিলেন, তার জানলা উড়ে গিয়েছে। কিন্তু বাকি সব ঘর, পারিপার্শ্বিক এলাকা- কোথাও হামলার কোনো চিহ্নই নেই! এ হামলায় কোনো শব্দ হয়নি। এমনকি, আল কায়দা প্রধান ছাড়া কেউ আহত হননি।
আয়মান আল-জাওয়াহিরি হত্যায় ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে, তা এখনো জানায়নি আমেরিকা। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি ইঙ্গিত করছে, আল কায়দার শীর্ষনেতাকে হত্যা করতে ব্যবহার হয়েছে ‘ম্যাকাব্রে হেলফায়ার আরএনএক্স’। এ ‘ওয়ারহেড-লেস মিসাইল’-এর বৈশিষ্ট্য হল লক্ষ্যবস্তুকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। কিন্তু বিস্ফোরণ হবে না। কোনো শব্দ হবে না।
.png)
এ নিয়ে পেন্টাগন বা সিআইএ- কেউই প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগেও বেশ কয়েক জন চরমপন্থী নেতাকে এ একই অস্ত্রে হত্যা করেছে আমেরিকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকা এ বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যবহার হয় ২০১৭ সালে। সে বার আর এক আল কায়দা নেতাকে হত্যার ছক কষে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ায় গাড়ি নিয়ে ঘুরছিলেন আল কায়দার অন্যতম শীর্ষনেতা আবু আল-খায়ের আল-মাসরি। কোনো শব্দ হল না। আচমকা গাড়ির ছাদ ফেটে মৃত্যু হলো তার। সেটাও নাকি এ ‘ম্যাকাব্রে হেলফায়ার আরএনএক্স’-এর বদৌলতে।
আবু আল-খায়ের আল-মাসরির হত্যার বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায়, গাড়ির ছাদে একটা বড় ফুটো। গাড়ির ভেতরের অংশ চূর্ণবিচূর্ণ। কিন্তু কী অদ্ভুত! গাড়ির সামনের এবং পিছনের অংশ একেবারে অক্ষত। আঘাতের লেশমাত্র চিহ্ন নেই। আমেরিকার এ বারের ‘মিশন’-এও সেই ড্রোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ‘নিনজা বোমা’-ই যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের অস্ত্র। লক্ষ্যবস্তু ছাড়া আঘাতের আঁচড় যাতে অন্য কোথাও না গিয়ে পড়ে, সেই কারণেই এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার।