মাঝআকাশে জ্বালানি সংকটে পড়া একটি বিমানকে অপর একটি বিমান সহায়তা করতে পারে। এটিকে বলা হয় এরিয়াল রিফুয়েলিং। এরিয়াল রিফুয়েলিং এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং নামেও পরিচিত। এক্ষেত্রে জ্বালানি লোডকৃত বিমানকে ট্যাংকার বলা হয়। অন্যদিকে, জ্বালানি গ্রহণকারী বিমানটিকে বলা হয় রিসিভার। যখন সামরিক বিমান অপারেশন ফ্লাইটে ৩০০০ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দেয় তখন রিফুয়েলের প্রয়োজন হয়।
কীভাবে এরিয়াল রিফুয়েলিং হয়?
.png)
প্রক্রিয়াটি বেশ বিপজ্জনক। এ ক্ষেত্রে মাঝআকাশের দু’টি বিমান ১০০ ফুট বা তারও কম দূরত্বে থাকতে হয়। সাধারণত দু’টি পদ্ধতিতে এরিয়াল রিফুয়েলিং হয়।
প্রথমত- ট্যাংকার বিমান একটি দীর্ঘ হোস পাইপ রিসিভার বিমানের দিকে এগিয়ে দেয়। হোস পাইপটি বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এ পাইপের মাথায় ফানেল আকৃতির একটি নল থাকে। রিসিভারের পাইলট আরেকটা নল জ্বালানি সংগ্রহের জন্য এগিয়ে দেয়। দু’টি নলই বাতাসে ভেসে থাকে। কৌশলী পাইলটরা দুই নলের সংযোগ ঘটান। নল দু’টি সংযুক্ত করার বিষয়টি নির্দিষ্ট গতিতে করতে হয়। খুব বেশি ধীর গতি হলে সংযোগ নাও হতে পারে। আবার খুব দ্রুত নাড়াচাড়া করলে হোস পাইপ ভেঙে যেতে পারে। সম্পূর্ণ এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রোব অ্যান্ড ড্রোগ।

দ্বিতীয়ত- বুম নামে পরিচিত শক্ত একটি নল দু’টি বিমানের সংযুক্ত করা হয়। একজন বিশেষজ্ঞ অপারেটর রিসিভার বিমানে নলটি যুক্ত করেন। এরপর নির্দেশ দেওয়ার পর ট্যাংকার বিমান থেকে নলে ফুয়েল ছাড়া হয়। এটিকে বলা হয় ফ্লায়িং বুম। এ পদ্ধতিতে দ্রুত জ্বালানি স্থানান্তর করা যায় বলে এটি বেশি জনপ্রিয়। ফ্লায়িং বুম পদ্ধতিতে মিনিটে ৬০০০ পাউন্ড জ্বালানি স্থানান্তরিত হয় আর প্রোব অ্যান্ড ড্রোগের ক্ষেত্রে মিনিটে ২০০০ পাউন্ড জ্বালানি স্থানান্তরিত হতে পারে।

মাঝআকাশে এরিয়াল রিফুয়েলিংয়ের সময় যেসব সাবধানতা জরুরি
রিফুয়েলিংয়ের সময় দু’টি বিমানকে একই গতিতে থাকতে হবে। গতির কোনো পরিবর্তন হলে ফিলিং ডিডাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা হয়ে যাবে। কাজ করা বন্ধ করে দেবে। সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এরিয়াল ফুয়েলিং শেষ হয়ে গেলে ট্যাংকার ফুয়েলিং ডিডাইসের পাওয়ার বন্ধ করে দেয়। এরপর বুম বা ড্রোগকে রিসিভার থেকে আলাদা করে নেয়। এরপর ট্যাংকার বিমানটি ল্যান্ড করে। রিসিভার বিমানটি জ্বালানি পূর্ণ হয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলে।
দুটি পদ্ধতির একটি ব্যবহার করেই যুদ্ধবিমান ‘সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই’কে সহায়তা করেছিল ফরাসি বিমান বাহিনীর আরেক যুদ্ধবিমান।
ভারতীয় বিমান বাহিনী জানায়, ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান অস্ট্রেলিয়ার এয়ার ফোর্সের একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছিল। এ সময় মাঝপথে জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে এগিয়ে আসে ফরাসি বিমান বাহিনী। তাই দেশটির বিমান বাহিনীর বন্ধুদের আন্তরিক ধন্যবাদ। ফরাসি ভাষাতেও এ ধন্যবাদ জানানো হয়।
ফরাসি বিমান বাহিনীও এক টুইটে লিখেছে- একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়ার আগে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ‘সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই’ যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি দিয়েছে ফরাসি বিমান বাহিনীর এ৩৩০ ফিনিক্স। ভারতীয় বিমান বাহিনীর কোন যুদ্ধবিমানকে এ প্রথম আকাশপথে সহায়তা করা হলো।
পিচ ব্ল্যাক ২০২২ হলো অস্ট্রেলিয়ার একটি দ্বি-বার্ষিক সামরিক মহড়া। এ মহাড়ার আয়োজন করে রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্স (আরএএফ)। বিশ্বের ১৭টি দেশের বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে এ মহড়া শুরু হয় ১৯ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন ও টাইডাল বিমান ঘাঁটিতে চলছে এ মহড়া। মহড়াটি শেষ হবে ৮ সেপ্টেম্বর। শেষবার এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালে।