ভারতের গুজরাটে ১৯৬২ সালে জন্ম নেন গৌতম আদানি। ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের ছাত্র ছিলেন গৌতম। কিন্তু পড়াশুনা শেষ করেননি। ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমেই আজ তার অঢেল সম্পদ।
আদানি গ্রুপের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী আদানি গ্রুপের অধীনে রয়েছে মোট সাতটি কোম্পানি।
.png)
বন্দর ব্যবস্থাপনা, কয়লা উৎপাদন এবং কয়লার ব্যবসা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, গ্যাস সরবরাহ, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ সরঞ্জাম উৎপাদন, বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, আমদানি রফতানি পণ্য পরিবহন, আবাসন, ভোজ্যতেল, খাদ্যপণ্য এরকম নানাখাতে ব্যবসা রয়েছে কোম্পানিটির। আর এসব ব্যবসা শুধু ভারতে নয় আদানি গ্রুপ বিশ্বব্যাপী তার শিল্প সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
ফোর্বস রিয়েল টাইম বিলিয়নেয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সম্পদের দিক দিয়ে অ্যামাজন বস জেফ বেজোস ও লুই ভিটনের বার্নার্ড আর্নল্টকেও ছাড়িয়ে গেছেন গৌতম আদানি। ভারতীয় এ ধনকুবেরের সামনে এখন বাকি শুধুই ইলন মাস্ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কিছুদিন আগেই এশিয়ার প্রথম নাগরিক হিসাবে ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছিলেন আদানি।
ফোর্বস রিয়েল টাইম বিলিয়নেয়ারের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় আদানির সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় চার শতাংশ বেড়েছে। আদানির সম্পত্তি বৃদ্ধির পরিমাণ ৩.৪৮ শতাংশ। বর্তমানে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৫৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১২.৩৭ লাখ কোটি রুপি। সেই হিসাবেই অল্পের জন্য অ্যামাজনের মালিককে পেছনে ফেলেছেন আদানি। একইসঙ্গে এ তালিকায় আদানি টপকে গিয়েছেন লুই ভিটনের কর্ণধার বার্নার্ড আর্নল্টকেও। তবে আগের তালিকার মতোই এবার শীর্ষস্থানে রয়েছেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৭৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ধনীতম ব্যক্তিদের প্রথম ১০ জনের তালিকায় রয়েছেন আরেক ভারতীয় মুকেশ আম্বানিও।
ফোর্বস রিয়েল টাইম বিলিয়নেয়ার তালিকার তথ্যানুযায়ী, তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা বার্নার্ড আর্নল্টের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা জেফ বেজোসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর আগে, ৩০ আগস্ট প্রথম এশীয় ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের ধনীতমদের তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন আদানি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি রিপোর্টে বলা হয়, ব্যবসা বাড়াতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঋণ নিয়ে ফেলছে আদানি গোষ্ঠী। যার ফলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে পারে তারা। কিন্তু সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। ১৫ পাতার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল, ধারাবাহিকভাবে ঋণের বোঝা কমিয়ে ফেলছে আদানি গোষ্ঠী।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০২২ সালের প্রথম থেকে লাগাতারভাবে বেড়েছে আদানির সম্পত্তির পরিমাণ। ফেব্রুয়ারি মাসেই মুকেশ আম্বানিকে টপকে ভারতের ধনীতম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন গৌতম আদানি। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আদানির সম্পত্তি বেড়েছে সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
এছাড়া ফোর্বস’র তালিকার তথ্যানুযায়ী মুকেশ অম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।