স্ত্রী অনুপমাকে হত্যার পর তার দেহ ৭০ টুকরো করার অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজা হয় রাজেশ গুলাতি নামে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন নিম্ন আদালত। বর্তমানে দেহরাদূনের জেলে বন্দি রাজেশ। যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত।
সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে ঐ দম্পতির বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমেরিকায় চলে যান তারা। পরে ২০০৮ সালে আবার দেহরাদূনে ফেরেন ঐ দম্পতি। এরপর থেকে প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। কলকাতার এক নারীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান রাজেশ। এ কথা জেনে ফেলেন অনুপমা। আর এ নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হয়।
.png)
২০১০ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে ঝগড়া হয় ঐ দম্পতির। সেই রাতে ৩৭ বছর বয়সি অনুপমাকে হত্যা করেন রাজেশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঝগড়ার সময় অনুপমার গালে চড় মেরেছিলেন রাজেশ। পাশাপাশি স্ত্রীর মাথা দেওয়ালে ঠুকে দিয়েছিলেন। এর জেরে জ্ঞান হারিয়েছিলেন অনুপমা।
জ্ঞান ফিরলে পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারেন অনুপমা, এ আশঙ্কায় তার মুখে বালিশ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন রাজেশ। তারপর স্ত্রীর দেহ ৭০ টুকরো করে কেটে পলিথিনের ব্যাগে ধরে ডিপ ফ্রিজারে রেখেছিলেন। তারপর শহরের বিভিন্ন জায়গায় সেই টুকরো দেহাংশ ফেলে দিয়েছিলেন। শ্রদ্ধা ওয়াকারকে খুনের ধরনের ক্ষেত্রে ঐ ঘটনার মিল রয়েছে। আর সে কারণেই ১০ বছর বাদে আবার চর্চায় এসেছে ঐ নৃশংস খুনের ঘটনা।
রাজেশ ও অনুপমার যমজ সন্তান রয়েছে। হত্যার পর দুই মাস স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন রাজেশ। সন্তানদের বলেছিলেন, তাদের মা দিল্লিতে গেছে। এক দিন তাদের বাড়িতে অনুপমার ভাই যান। সেই সময় অনুপমার ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেননি রাজেশ। এরপরই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছিলেন অনুপমার ভাই। তদন্তে নেমে রাজেশের বাড়িতে ডিপ ফ্রিজারে অনুপমার মাথা দেখতে পায় পুলিশ। এরপরই এ হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে।
শ্রদ্ধাকে খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার এক ইংরেজি দৈনিককে অনুপমার পরিবারের আইনজীবী এস কে মোহান্তি বলেন, রাজেশ জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাইকোর্ট তাকে ২১ দিনের জন্য সেপ্টেম্বর মাসে জামিন দিয়েছিলেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।