এইআরএ-এর তথ্যানুসারে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ৫৮ শিশুর মধ্যে ৪৫ জন ছেলে ও ১২ মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানজুড়ে দুই মাস বিক্ষোভ চলে। এখনো দেশটির কোথাও কোথাও বিক্ষোভ হয়। গত সপ্তাহে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন পাঁচ শিশু। এর মধ্যে নয় বছরের কিয়ান পিরাফালাক আছেন। এছাড়া নিহতেরদ মধ্যে ১৩ বছরের শিশু রয়েছে।
.png)
শুক্রবার কিয়ানের অন্ত্যেষ্ঠিক্রিয়ায় তার পরিবার জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পারিবারিক গাড়িতে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। কিয়ান তার বাবার পাশেই বসেছিল।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কিয়ানকে হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, সন্ত্রাসী হামলায় কিয়ান নিহত হয়েছেন। তবে কিয়ানের বাবা-মা দ্য অবজার্ভারকে বলেন, আমাদের ছেলেকে সরকারি বাহিনী হত্যা করেছে।
হাসান দারুফাতেহ জানান, তার ছেলে কুমার বড় হয়ে বিখ্যাত লোক হবে। কিন্তু গত ৩০ অক্টোবর পশ্চিম ইরানের পীরানশাহার শহরে তার বাড়ির সড়কে কুমার মারা যায়। তাকে হত্যার সময় কয়েকটি গুলি করা হয়েছে।
মোহাম্মদ ইকবাল পরিবারকে সাহায্য করতে নয় বছরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন। তিনি একটি স্মার্টফোন কিনে ইনস্টাগ্রাম চালানোর ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তবে তার স্মার্টফোন কেনা হয়নি। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।
ইকবারের এক স্বজন জানান, মৃত্যুর আগে ইকবাল এক অপরিচিত লোককে তার সেল ফোন দেন এবং বাবার কাছে কল করতে বলেন যে, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যখন স্বজনরা ইকবালকে দেখতে হাসপাতালে যায় তখন সেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো অবস্থা ছিল। মেঝেজুড়ে লাশের সারি রাখা ছিল। আর মায়েরা তাদের লাশ দেখে কান্না ভেঙে পড়ছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর কুর্দিস্তান প্রদেশে ১২ জন শিশু নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন ইরানের বিশেষ বাহিনীর জিম্মায় নিহত হন। এছাড়া বিক্ষোভকালে ইরানের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ২০০ কুর্দিশ কিশোর গ্রেফতার এবং ৩০০ জন আহত হয়েছে।