পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের বাসিন্দা বিষ্ণুপদ ঘোড়ুই। মাত্র দেড়শো টাকার টিকেট কিনে কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন তিনি।
বিষ্ণুপদের সংসার চলে মূলত চাষবাস করে। তিনি জানিয়েছেন, রোববার সকালে কাজে যাওয়ার পথে মহিষাদলের গাডুহাটায় একটি লটারির দোকান থেকে দেড়শো টাকা দিয়ে টিকেট কেটেছিলেন। তাতেই ভাগ্যবদল!
.png)
কাজ সেরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে বিষ্ণুপদ জানতে পারেন, লটারিতে ১ কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার জিতেছেন। কোটি টাকা ঘরে আসার খবর পেয়ে ভয়ে সোজা মহিষাদল থানায় ছোটেন তিনি। থানার কর্মকর্তাদের কাছে গোটা বিষয়টি জানিয়ে নিরাপত্তার আর্জিও জানান। তার আবেদনে শুনে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বিষ্ণুপদকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, কোটি টাকা তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার না করা পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তার আবেদন করেছেন বিষ্ণুপদ।
রোববার রাত মহিষাদল থানায় কাটিয়েছেন বিষ্ণুপদ। তার সঙ্গে থানায় হাজির ছিলেন আত্মীয়-পরিজনেরাও।
আরো পড়ুন>> ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৬, আহত ৭ শতাধিক
বিষ্ণুপদ বলেন, ‘‘সকালে কাজে যাওয়ার সময় একটা লটারির টিকেট কেটেছিলাম। সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে শুনি, ১ কোটি টাকার প্রাইজ জিতেছি। এই প্রথমবার লটারির টিকেট কিনেছিলাম। তবে এবার খুব ভয় করছে। তাই প্রশাসনের থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য থানায় এসেছি। পুলিশ বলেছে, যতক্ষণ এই থানার এলাকায় থাকব, ততক্ষণ আমাকে সুরক্ষা দেবে।’’
তার টিকেটে কোটি টাকার পুরস্কার জেতায় খুশি গাডুহাটার লটারি বিক্রেতা শ্যামলকুমার মাইতি। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাস্টমার ১ কোটির টাকার প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। তবে যত ক্ষণ সে টাকা পাওয়া না যায়, পুলিশ-প্রশাসন তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, লটারির টিকেটে মোটা অঙ্কের টাকা জিতলেও তা কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। কখনও কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য তা হাতবদল হচ্ছে। কখনও বা কালো টাকা সাদা করার জন্য লটারির আড়াল নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের লটারিতে জেতা পুরস্কারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষ্ণুপদর ঘটনার সঙ্গে ওই সব ঘটনার সম্পর্ক নেই।
সূত্র: আনন্দবাজার