গত ১১ নভেম্বর মরিসের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সাব্যস্ত হলে তাকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেন কিংস্টন ক্রাউন আদালত।
চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাস নাগাদ মরিসের শিকার হন এক কলেজ শিক্ষার্থী। কলেজ ক্যাম্পাসের ধারে ঘুরঘুর করতেন তিনি। তারপর সেখান থেকে ছাত্রীদের পিছু নিতেন। ছাত্রীদের অজান্তেই তাদের অনুসরণ করতেন মরিস। সুযোগ বুঝে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন। কখনো জনমানবহীন কোনো লন্ড্রি রুম, কখনো ফাঁকা কোনো ফ্ল্যাটে ছাত্রীদের টেনে নিয়ে যেতেন মরিস।
.png)
পুলিশের দাবি, মূলত শারীরিক চাহিদা মেটাতে মেয়েদের ওপর এমন আক্রমণ করতেন মরিস। দু’জন তরুণী তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
কলেজ ক্যাম্পাস থেকে তরুণীকে অনুসরণ করে মরিস ধোপাখানা পর্যন্ত গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তারপর তিনি সেই ধোপাখানা ফাঁকা হওয়ায় অপেক্ষা করেন। সকলে চলে গেলে প্রকাশ্যে আসে মরিসের আসল রূপ। ফাঁকা ঘরে ঐ তরুণীকে যৌন নিগ্রহ করেন মরিস। তিনি যে পিছু নিয়ে কলেজ থেকে ধোপাখানা পর্যন্ত এসেছিলেন, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি ঐ তরুণী।
ধোপাখানায় যৌন নিগ্রহের পর মরিসের দ্বিতীয় কীর্তি আরো ভয়ানক। ফাঁকা ফ্ল্যাটে এক তরুণীকে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা আটকে রাখেন তিনি। এ ক্ষেত্রেও অতর্কিতে আক্রমণ করেন মরিস। তরুণীকে কলেজ থেকে অনুসরণ করতে করতে তার বাড়ির দিকে এগোন। ফাঁকা ফ্ল্যাটে তাকে টেনে নিয়ে বন্ধ করে দেন বাইরের পথ। ১২ ঘণ্টা তরুণীকে যৌন হেনস্থা করেন মরিস। নিজের অতৃপ্ত শারীরিক চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির ১২ ঘণ্টা পর কোনো রকমে মরিসের কবল থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন তরুণী।
কীভাবে মুক্তি পেলেন তরুণী? অভিযোগ, আগেই তার মোবাইল ফোন থেকে সব রকমের যোগাযোগের অ্যাপ মুছে দেন মরিস। কেবল পড়েছিল জি-মেল। তার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান সম্পর্কে খবর দিতে সক্ষম হন তরুণী।
উভয় ক্ষেত্রেই মরিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তরুণীরা। একের পর এক হামলা পুলিশের টনক নাড়িয়ে দেয়। তারা অভিযুক্তকে ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে। মরিসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বেন সলমন বলেন, মরিসের শিকার হওয়া দু’জন তরুণীই যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা ভয়াবহ। ভয়কে জয় করে তারা যে এগিয়ে এসেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য।’
পুলিশের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, মরিসের আচরণ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। গ্রেফতারির পরও তিনি ঠান্ডা মাথায় রয়েছেন। সুপরিকল্পিতভাবে তিনি নিজের ‘শিকার’ বেছে নিতেন। ফলে তাকে গ্রেফতার করা জরুরি ছিল।